দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন মিন্নি

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হ*ত্যা*কা*ণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিবেকে নাড়া দেয় দেশব্যাপী সকল মানুষের। নারকীয় ওই *হ*ত্যা*কাণ্ডে*র প্রথম ভিডিওতে রিফাত শরীফকে বাঁচাতে তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির প্রাণপণ প্রচেষ্টা প্রশংসিত হয় দেশজুড়ে। কিন্তু তখনও কে জানত সর্ষের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভূত!

হ*ত্যা*কা*ণ্ডের পরদিন দুপুরে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে অভিযুক্ত করে হ*ত্যা* মা*ম*লা করেন নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ। স্বাভাবিক কারণেই এ মা*ম*লার প্রধান সাক্ষী হন নি*হ*ত রিফাতের স্ত্রী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। কিন্তু পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে হ*ত্যা*কা*ণ্ডের প্রকৃত রহস্য। রিফাত হ*ত্যা* মা*ম*লায় মিন্নি হয়ে যান প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরসহ মিন্নিকে জি**সাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনার পুলিশ লাইনে নিয়ে আসে পুলিশ।

এরপর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানু*পুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ ও পুলিশের কৌশলী এবং বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আটকে যান মিন্নি। বেরিয়ে আসে হ*ত্যা*কা*ণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ। এরপরই মিন্নিকে গ্রেফ*তার করে পুলিশ। আর তখনই প্রধান সা*ক্ষী থেকে আসামি বনে যান মিন্নি।

তবে মিন্নিকে গ্রে*ফতারের বিষয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। মিন্নিকে গ্রে*ফ*তারের পর তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারাতো সবাই ভিডিওতে দেখেছেন, মিন্নি তার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। আমার মেয়েকে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফ*তার করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার অতটুকু মেয়ে কী করে খু*ন করতে পারে? ওর শরীরে কি একজন মানুষ খু*ন করার মতো শক্তি আছে?’ এদিকে মিন্নিকে গ্রে*ফ*তারের বিষয়টি জানাতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বরগুনা জেলা পুলিশ।

শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণেই রিফাত শরীফকে খু**ন করা হয়েছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, ‘রিফাত হ*ত্যা* মা*ম*লার একমাত্র প্রতক্ষদর্শী ও প্রধান সাক্ষী নি*হ*ত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে অনেকদিন ধরে পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। মঙ্গলবার সকালে রিফাত হ*ত্যা* মা*ম*লার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিন্নিকে তার বাবাসহ পুলিশ লাইনে নিয়ে এসে জবানবন্দি গ্রহণ ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ও বিভিন্ন সময় পুলিশের কাছে আসা তথ্য সমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই হ*ত্যা*কাণ্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে। তাই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার রাত ৯টার সময় পুলিশ মিন্নিকে রিফাত হ*ত্যা* মা*মলা*য় গ্রে*ফ*তার দেখিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এ মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালতে হাজির করে মিন্নির রিমান্ডের আবেদন করবে পুলিশ। রিফাত হ*ত্যা*কা*ণ্ডে অভিযুক্তদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মা*দক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলেও পুলিশের তদন্তে এই হ*ত্যা*কাণ্ডে*র সঙ্গে মা*দ*কের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।