গড়লেন মোস্তাফিজ – বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে টসে হেরে বোলিংয়ে নেমে ক্রিকেট ইতিহাসের চতুর্থ দ্রুততম বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ১০০ উইকেট নেওয়া রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশী পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। আর সবচেয়ে দ্রুততম ও ষষ্ঠ বাংলাদেশী বোলার হিসেবে ১০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন তিনি।
লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আজ মাঠে নামার আগে মাত্র ২ উইকেট দুরে ছিলেন তিনি। আজ বোলিংয়ে নেমে শুরুতে উইকেট না পেলেও শেষের দিকে ইনিংসের ৪২তম ওভারে হিট উইকেটে শতক হাকানো ইমাম উল হক কে ফেরান মোস্তাফিজ। পরের ওভারেই হ্যারিস সোহেলকে ব্যক্তিগত ৬ রানে ফিরিয়ে শততম উইকেট নেন ফিজ।
এর ফলে ৫৪ ম্যাচ খেলে চতুর্থ দ্রততম ১০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েন মোস্তাফিজ। এ তালিকায় সবার উপরে ৪২ ম্যাচ খেলে ১০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডি আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খানের ঝুলিতে।
অবিশ্বাস্য এক প্রতিভা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাব হয়েছিল মোস্তাফিজুর রহমানের। তার মায়াবী কাটারের জাদুতে বিভ্রান্ত করেছেন অসংখ্য তারকা ব্যাটসম্যানকে। তবে সময় যত গড়িয়েছে, মোস্তাফিজের ধার যেন ততই কমছে।
চোট সমস্যা ছিল, অস্ত্রোপচারের পর যেন হারিয়ে যেতে বসেছিলেন মোস্তাফিজ। তবে ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে ফিরে পাচ্ছেন। এত প্রতিকূলতার মাঝেও আজ (শুক্রবার) পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমে নতুন এক মাইলফলক গড়েছেন কাটার মাস্টার।
বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে দ্রুততম হিসেবে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ৫৪ ম্যাচের ৫৩ ইনিংসে বল করে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মোস্তাফিজ।
এর আগে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার রেকর্ড ছিলো বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকের দখলে। ১০০ উইকেট পেতে রাজ্জাকের লেগেছিল ৬৯টি ওয়ানডে।
শুধু তাই নয়, এশিয়ার পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম ১০০ উইকেট নেয়ারও কীর্তি এখন মোস্তাফিজের। আর ওয়ানডে ইতিহাসে যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম ১০০ উইকেট নেওয়া ক্রিকেটার তিনি।
মোস্তাফিজের সমান ৫৪ ম্যাচে ১০০ উইকেট নিয়ে এতদিন এককভাবে চতুর্থ স্থানে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক পেসার শেন বন্ড। সবচেয়ে কম ম্যাচে ১০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তিটা আছে আফগানিস্তানের রশিদ খানের দখলে। ১০০ উইকেট নিতে তিনি খেলেন মাত্র ৪৪ ম্যাচ।
৫২ ও ৫৩ ইনিংসে ১০০ উইকেট নিয়ে যথাক্রমে এই তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক ও পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার সাকলাইন মুশতাক।
