হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসায় ‘অনিয়ম’ দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক রুবেল খান, যিনি এক বছর আগে মেয়ে রাইফার মৃ***র পর ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগ এনে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
রাইফার প্রথম মৃ***বার্ষিকীতে শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ভুল চিকিৎসার কারণে দেশে মৃ***র হার বাড়ছে।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুবেল বলেন, “ভুল চিকিৎসা করে রোগী মেরে ফেলার পরও চিকিৎসকরা যদি শাস্তি না পায়, তাহলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সংকটে পড়বে।
“এমন ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার ঘটনা আরও বাড়তে থাকবে। ফলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে।”
গত বছরের ২৮ জুন গলাব্যথা নিয়ে চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রাইফা পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
দুই বছর চার মাস বয়সী রাইফার মৃ***র পর ম্যাক্স হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতি, অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে আন্দোলন গড়ে ওঠে।
এরপর ২৮ জুলাই রাইফার বাবা রুবেল খান চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন। শিশু বিশেষজ্ঞ বিধান রায় চৌধুরী, হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও শুভ্র দেব এবং ম্যাক্স হাসপাতালের পরিচালক ডা. লিয়াকত আলীকে সেখানে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে রুবেল অভিযোগ করেন, চার চিকিৎসকের অবহেলা ও গাফিলতিতে রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় না হওয়া এবং ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক ও অতিরিক্ত মাত্রায় ‘সেডিল’ প্রয়োগের কারণে তার মেয়ের মৃ*** হয়েছে।
“অ্যান্টিবায়েটিকে রাইফার শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলেও তা বারবার প্রয়োগ করা হয়ছিল। পরে ওষুধের আলামতও নষ্ট করে দেওয়া হয়।”
রুবেলের দাবি, ওই অ্যান্টিবায়েটিক মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল কি না, তা যাচাই করতে সংরক্ষণ করার কথা বলা হলেও চিকিৎসকরা তা সরিয়ে ফেলেন।
রাইফার মৃ***র পর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তারা সুষ্ঠু তদন্ত করেনি বলে অভিযোগ করেন রুবেল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ওই কমিটিতে সবাই চিকিৎসক হওয়ায় তারা ত্রুটিপূর্ণ ম্যাক্স হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের পক্ষে গত ৫ মে চট্টগ্রাম সিএমএম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। সেটি গ্রহণ না করতে আমি আদালতে আবেদন জানিয়েছি।”
তদন্ত দল তাদের কাজ করার সময় মামলার বাদী হিসেবে তার সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি বলেও অভিযোগ করেন রুবেল।
অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্তে ম্যাক্স হাসপাতালের ১১টি ত্রুটির কথা এসেছিল মনে করিয়ে দিয়ে রুবেল বলেন, “একজন চিকিৎসক যদি অপরাধ করে তাকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। রাইফার মৃ***র প্রতিবেদন নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে করে তা জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হোক।”
ভুল চিকিৎসায় শিশু রাইফার মৃ***র আলামত নষ্ট করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই ধরনের মৃ*** সনদ দিয়েছিল বলেও দাবি করেন এই সাংবাদিক।
এ সংবাদ সম্মেলন থেকে শনিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে সমাবেশের ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা।
অন্যদের মধ্যে বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব কাজী মহসিন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিম উদ্দিন শ্যামল, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক হাসাপন ফেরদৌস, যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ, প্রচার সম্পাদক আহমেদ কুতুব, নির্বাহী সদস্য উত্তম সেন গুপ্ত, চট্টগ্রাম হাউজিং কো- অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান স্বপন মল্লিক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
