মায়ের সাক্ষীতে নয়নের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল মিন্নির

আলোচনা-সমালোচনা সব ছাড়িয়ে একের পর এক সামনে আসছে নতুন সব তথ্য। বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাত শরীফকে হত্যার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে এই একই আলোচনা। আর এ আলোচনা কেন্দ্রবিন্দু মিন্নি। রিফাতের হত্যাকারী নয়ন বন্ড আর মিন্নিকে নিয়ে একের পর এক বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। যা অবাক করছে সবাইকে।

এইতো সম্প্রতি সামনে এলো কিছু ছবি, তারপর এক ভিডিও। সর্বশেষ সতত্যা মিললো মিন্নি ও নয়ন বন্ডের বিয়েরও।

মিন্নি ও নয়ন বন্ডের বিয়ের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে কাজী মো. আনিসুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি বরগুনা পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্টার। তার অফিস বরগুনা পৌরসভার ডিকেপি রোডের কেজি স্কুল নামক স্টান্ডে।

জানা যায়, নয়ন বন্ড ও আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বিয়ের প্রথম স্বাক্ষী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় আসামি বাকিবুল হাসান রিফাত ওরফে রিফাত ফরাজি। গত বছরের ১৫ অক্টোবর আছরের নামাজের পর তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের দেনমোহর হয়েছিল ৫ লাখ টাকা। তবে দেনমোহরের কোনো নগদ পরিশোধ ছিল না।

কাজী মো. আনিসুর রহমান বলেন, বিয়ে করার জন্য নয়ন ও মিন্নিসহ ১৫ থেকে ২০ জন লোক আসে আমার অফিসে। এ সময় নয়ন ও মিন্নি তাদের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার প্রমাণস্বরূপ এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট নিয়ে আসে। এরপর আমি মেয়ের বাবার সঙ্গে কথা বলে জানতে চাইলে তারা বলে, মেয়ের বাবা আসবে না, আপনি মেয়ের মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর মিন্নির মা পরিচয়ে একজন আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

তিনি আমাকে বলেন, বিয়ের বিষয়টি আমরাতো জানি। মিন্নির বাবা বিয়েটা এখন মানবে না। আপনি বিয়ে সম্পন্ন করেন। বিয়ের কিছুদিন পর ঠিকই মেনে নেবেন। এরপর আমি পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে নয়ন ও মিন্নির বিয়ে সম্পন্ন করি। এ বিয়ের উকিল ছিলেন শাওন নামের একজন। শাওন ডিকেপি রোডের মো. জালাল আহমেদের ছেলে।

কিন্তু এর আগে মিন্নি বলেন, আমার বিয়ে হয়েছে একমাত্র রিফাত শরীফের সঙ্গে। এছাড়া আর কখনো কারও সঙ্গে বিয়ে হয়নি। যেহেতু বিয়েই হয়নি, ডিভোর্স হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। রিফাতই আমার স্বামী এবং এটাই সত্য। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই দাবি করি, যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই।