ফেসবুকে রিফাতের স্ত্রীর শেষ স্ট্যাটাস যা ছিল

বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নেয়াজ রিফাত শরীফ নামে এক যুবককে গতকাল সকালে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে, যা ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। সে সময় রিফাতের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার।

গতকালকে ওই হামলার ভিডিওতে দেখা যায়, কলেজের মূল ফটকের কাছে কয়েকজন যুবক রিফাতের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে উপর্যুপরি হামলা চালাচ্ছে। এ সময় আয়েশা আক্তার একাই দুর্বৃত্তদের হামলা থেকে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

এ ঘটনায় চন্দন নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এখনো নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীসহ বেশ কয়েকজন পলাতক রয়েছে। নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

আসামিরা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

ঘটনার পর থেকে মিন্নির ফেসবুকে ঢু মারছেন অনেকেই। মিন্নির তার ফেসবুকে সর্বশেষ স্ট্যাটাস দিয়েছেন ৭ মে। সেখানে তিনি লিখেছেন- ‘তোরে ভুলে যাওয়ার লাগি আমি ভালোবাসিনি সব ভেঙ্গে যাবে এভাবে ভাবতে পারিনি তুই ছাড়া কে বন্ধু হায় বুঝে আমার মোন তুই বিহনে আর এ ভুবনে আছে কে আপন?? ’

তার এই পোস্টটি এখন পর্যন্ত ৫শ’র অধিক শেয়ার এবং চার হাজারের বেশিজন মন্তব্য করেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

সাংবাদিকদের বলেন, তিনি তার সর্বোচ্চটা দিয়ে স্বামী রিফাত শরীফকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পারেননি। এই আক্ষেপ আর বেদনা নিয়ে বাকি জীবনটা কীভাবে পার করবেন, সেটা এখন বুঝে উঠতে পারছেন না।

তিনি বলেন, ‘আমি অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু আমি পারিনি, আমি আমার স্বামীকে আপ্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি…। আমি চিৎকার করেছি, সবাইরে ডাকছি কেউ আমারে সাহায্যে করেনি।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বামী হারা তরুণী আরও বলেন, ‘আমি আর আমার স্বামী কলেজে বের হই। হঠাৎ আমাদের উপর আক্রমণ করে। …আমরা কলেজ থেকে বের হবার পর প্রথমে কয়েকজন আমাদের আটকায়। সে সময় ওরা আমার স্বামীকে মারতে শুরু করে। এ সময় দা টা কী কী যেন নিয়ে আসে ওরা। পরে সবাই ছেড়ে দেয়। এ সময় রিশাতত নামে একজন ছেলে রিফাতকে ধরে। পরে নয়ন ও রিফাত ফরাজী দুইজন মিলে আমার স্বামীকে কোপাতে থাকে।’ এরপর তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকালে রিফাত শরীফ মারা যান।