যারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে

বরগুনায় সড়কে প্রকাশ্যে যুবককে তার স্ত্রীর সামনে এলোপাতাড়ি কোপানোর ঘটনাটির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে গতকাল থেকেই। এ ঘটনায় নানাভাবে প্রতিবাদ ও বিস্ময় প্রকাশ করে ফেসবুকে বিভিন্ন ধরণের মন্তব্য করছেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।

তবে বেশিরভাগ মানুষই তাদের ফেসবুক মন্তব্যে লিখেছেন, ঘটনার সময় আশেপাশে ভিড় করে দর্শকের ভূমিকায় থাকা মানুষরা চাইলে দুর্বৃত্তদের বাধা দিতে পারতেন। বিশেষ করে হামলার শিকার রিফাতের স্ত্রী যখন একাই তার স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিল। প্রকাশ্যে পৈশাচিক এমন হামলা ঠেকাতে তাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল জানিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী বরগুনার ঘটনাটি হাইকোর্টের নজরে আনলে বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত বলেন, ‘সারা দেশের সবাই এই ঘটনায় মর্মাহত। সমাজটা কোথায় যাচ্ছে? প্রকাশ্য রাস্তায় মানুষটাকে মারলো। একজন ছাড়া কেউ এগিয়ে আসলো না!

‘জনগণকে আপনি কী করবেন? বাংলাদেশের পরিস্থিতি এমন ছিল না। ভিডিও করল, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসল না! এটি জনগণের ব্যর্থতা।’ বিচারক বলেন, ‘দাঁড়িয়ে দেখেছে, কেউ প্রতিবাদ করল না! পাঁচজন মানুষ অন্তত এগিয়ে আসলে হয়তো তারা সাহস পেত না। হয়তো তারা (দুর্বৃত্তরা) ক্ষমতাবান, হয়তো মানুষ ভয়ে এগিয়ে আসেনি।’

এছাড়া সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, বরগুনায় প্রকাশ্যে সড়কে রিফাত শরীফকে হত্যাকারীদের যেকোনো মূল্যে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, রিফাত হত্যার ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর অর্থ এই নয় যে, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি ঘটেছে। হত্যাকারী একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্য হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।

এদিকে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম। এছাড়া যারা এই ঘটনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি একথা জানান।

সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-

‘বরগুনার হত্যার গ্রেপ্তার এবং বিচার হবে, হতেই হবে।

ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে দেয়া হয়েছে বলে সবাই এটা নিয়ে কথা বলছেন। অবশ্যই ভালো।

কিন্তু অন্য সবকিছু বাদ দিলাম। গতকাল মোটামুটি একই সময়ে রাজশাহীর তানোরে বাজারে আম বিক্রি করতে গিয়ে একইভাবে নিহত হয়েছে আর একজন তরুণ, প্রকাশ্যেই দিবালোকেই হত্যা করেছে পাশের আর এক দোকানদারের ছেলে। নিহতের একটা রাজনৈতিক পরিচয়ও আছে, সে সেখানকার একটি ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। না কোনো টেন্ডার নিয়ে বা বান্ধবী নিয়ে ফেসাদ নয়। সংসার চালাতে নিজেই বাগানের আম বিক্রি করতে গিয়েছিল সেই হতভাগা তরুণ। সব মৃত্যুই আমাকে নাড়া দেয়। তরুণ-তরুণীর মৃত্যু একটু বেশি নাড়া দেয়। শিশুর মৃত্যু আরও বেশি নাড়া দেয়।

আমরা বরগুনার মতো সবগুলোর ভিডিও দেখতে পাই না। গতকাল হয়তো এই দুইয়ের বাইরেও মানুষ খুন হয়েছে বা অপমৃত্যু হয়েছে। আমরা সবগুলোর খোঁজ রাখি না। তবে সচেতনতা সামাজিক সমস্যাগুলোকে কমিয়ে আনবে।

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যারা দেখছিলেন তারা মনে হয় না সাধারণ পথচারী বা ছাত্র। অবশ্যই তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা নিশ্চিত করবো প্রথমে গ্রেপ্তার তারপর ন্যায় বিচার। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।’

উল্লেখ্য, রিফাত হত্যার ঘটনায় পুলিশ এরই মধ্যে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তার নাম চন্দন। তবে প্রধান সন্দেহভাজন নয়ন বন্ড, তার বন্ধু নিশান ফরাজি ও রাব্বি আকন এখনো লাপাত্তা। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ থেকে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার বিষয়টিও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।