ফাহিম খান একজন প্রবাসী বাংলাদেশি। থাকেন ব্রাজিলের সাঁও পাওলোতে।
তবে বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জের মেহেরপুরে। অন্য আট-জন প্রবাসীর মতোই ব্রাজিলে দিন-রাত খাটুনির মাঝে দিয়ে কাটছে তাঁর জীবন।
প্রচন্ড ব্যস্ততার মাঝেই কিছু সময় বের করে ৮০০ ক্রুজেরিও (বাংলাদেশি ১৬০০০ টাকা) খরচ করে সম্প্রতি ব্রাজিলে আয়োজিত কোপা আমেরিকার ব্রাজিল বনাম পেরুর ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন তিনি। তবে সে সময় তাঁর হাতে ছিলো লাল-সবুজের পতাকা আর পরনে ছিলো বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের জার্সি। তাঁর সুবাদে ব্রাজিলের ম্যাচে গ্যালারিতে বাংলাদেশের পতাকা দেখেছেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ৷
সিলেটের সন্তান ফাহিম তাই বেশ নামও কুঁড়িয়েছেন। আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও ফাহিম এতো টাকা খরচ আর এতো পরিশ্রমের এই কাজটি করেছেন শুধুমাত্র বাংলাদেশকে পুরো বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্য। সম্প্রতি এক ফোন কলের মাধ্যমে ফাহিম ‘স্পোর্টসজোন টোয়েন্টিফোরের’ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন তাঁর সেই অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা।
তবে কাজটা যে কতোটা কঠিন ছিলো তা না হয় তাঁর মুখেই শোনা যাক, ‘ব্রাজিলের খেলার আগেরদিন আমি ভাবলাম বাংলাদেশের পতাকা আর জার্সি নিয়ে খেলা দেখতে যাবো। কিন্তু ব্রাজিলে বাংলাদেশের পতাকা সহজে পাওয়া যায় না। কেউ বাংলাদেশের পতাকা এখানে বিক্রি করে না। আমি অনেক কষ্ট করে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে আমার আঙ্কেলের কাছ থেকে ম্যাচটার জন্য পতাকাটা নিয়েছি। রাতদিন কাজ করে পরে একটু সময় বের করে খেলাটা দেখতে হয়েছিলো। আর জার্সিটা ধার নিয়েছিলাম এক বড় ভাইয়ের থেকে। দেশ থেকে আমার কয়েকজন আঙ্কেল বিশ্বকাপের আগে ৭ টা জার্সি এনেছিলেন। এর মাঝে খেলা দেখার জন্য বড় ভাইয়ের থেকে জার্সিটা ধার নিয়েছিলাম। কারণ, উনার আর আমার জার্সির সাইজ একই।’
স্টেডিয়ামে ঢোকার পর অন্য দর্শকেরা ফাহিমের দিকে বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে ছিলেন। অন্য সবার কাছে যখন ফাহিম বাংলাদেশির পরিচয়টা দিয়েছিলেন, তখনই তাঁর এই কষ্টটা সার্থক বলে মনে হয়েছিলো। ফাহিমের ভাষ্যে, ‘বাংলাদেশের পতাকাটা নিয়ে যখন স্টেডিয়ামে ঢুকি, তখন সবাই আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলো। সবাই বারবার জিজ্ঞেস করছিলো, ” আরে! এটা কোন দেশের পতাকা?” অনেকে বাংলাদেশের পতাকা চিনতো। তারা বললো, “এটা তো বাংলাদেশের পতাকা; আপনি বাংলাদেশি নাকি?” আমার তখন অনেক ভালো লাগছিলো। আমি বললাম, “হ্যাঁ আমি বাংলাদেশি।” তখন অনেক ভালো লাগছিলো। এতো কষ্ট করে যে খেলাটা দেখতে আসলাম, সেই কষ্টটা তখন সার্থক মনে হচ্ছিলো।’প্রকৃতপক্ষে, এতোটা খাটাখাটুনির পরও বাংলাদেশের প্রবাসীরা দেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার জন্য যে কষ্টটা করেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
