আর কখনওই ব্যাট হাতে ২২ গজে ঝড় তুলতে দেখা যাবে না যুবরাজ সিংকে। দ্য ওভালে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে ভারত যখন আনন্দে মাতোয়ারা; এর মাঝেই আজ সোমবার ব্যাট-প্যাড তুলে রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন যুবরাজ সিং। ভারতের এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান স্বয়ং চেয়েছিলেন, ২০১৯ সালের পর অবসর নিতে। কিন্তু জাতীয় দলে দিনের পর দিন অবহেলার শিকার হয়ে সিদ্ধান্ত দ্রুতই নিয়ে নিলেন তিনি।
মানুষ যা ভাবে তা তো সব সময়ে হয় না। মহেন্দ্র সিংহ ধোনি, বিরাট কোহালিরা যখন রাণীর দেশে নিজেদের নিংড়ে দিচ্ছেন, ঘাম ঝরাচ্ছেন, তখন যুবরাজ হৃদয়বিদারক সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেললেন। গত কয়েক বছর ধরে তার অবসর নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। শেষের দিকে প্রায় প্রতিটি সাংবাদিক সম্মেলনেই নিয়ম করে যুবরাজকে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হতো, ‘কবে অবসব নেবেন?’ বারবার একই প্রশ্ন শুনে চুপ করে থাকতেন তিনি।
একবার একই প্রশ্ন শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে ভারতের হয়ে ৪০টি টেস্ট, ৩০৪টি ওয়ানডে ও ৫৮টি টি টোয়েন্টি খেলা এই বাঁহাতি অল-রাউন্ডার বলে ফেলেছিলেন, ‘একটা সময়ের পর সবাইকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ২০০০ সাল থেকে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি। ১৭-১৮ বছর হয়ে গেল। ২০১৯-এর পর আমি এই ব্যাপারে ভাবব।’
সাংবাদিক সম্মেলনে অবসর ঘোষণার সময় যুবরাজ বলেন, ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনাল, ২০০৭ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্রডকে এক ওভারে ৬টি ছক্কা হাঁকানো তার ক্রিকেটজীবনের স্মরণীয় ঘটনা। সাংবাদিক সম্মেলন শুরুর আগে একটি আবেগপ্রবণ ভিডিও দেখানো হয়। সেখানে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমি এই খেলাটা ভালোবাসি। আবার এই খেলাটাকেই আমি ঘৃণা করি। ক্রিকেট আমাকে সুপারস্টার বানিয়েছে। আমাকে সব দিয়েছে। তাই এই খেলাটাকে আমি খুব ভালোবাসি। কিন্তু, এই ক্রিকেটই আমাকে মানসিক দিক থেকে যন্ত্রণা দিয়েছে।’
বাবা যোগরাজ সিংহ বড়মাপের ক্রিকেটার হতে পারেননি। ছেলেকে ক্রিকেটার বানিয়ে নিজের অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করতে চেয়েছিলেন। যোগরাজ মাঝে মাঝে নির্দয় হয়ে উঠতেন ছোট্ট যুবরাজের উপরে। যুবরাজ সিংয়ের ক্রিকেট ক্যারিয়ার কম বর্ণময় নয়। রীতিমতো আকাশ ছুঁয়েছেন তিনি। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ট ব্রডকে ৬টা ছক্কা হাঁকানো, ২০১১ বিশ্বকাপ প্রায় একার হাতেই জিতিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তারপর ক্যান্সারে জয় করে অবিশ্বাস্যভাবে ক্রিকেটে ফেরা হয়তো যুবরাজের পক্ষেই সম্ভব।
