কিউয়িদের কালঘাম ছুটিয়েও হেরে গেল বাংলাদেশ। তবে এখানেই শেষ কথা না। টাইগাররা যে লড়তে পারে তারই জানান দিল ক্রিকেট বিশ্বকে।
বাংলাদেশ দল ভালো খেলছে। নিয়মিত জিতছে। কিছু কিছু ম্যাচে হচ্ছে লড়াই। সবাই বলছে বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটাঙ্গনে বড় দলে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আসলে কি তাই ?
আর এই প্রশ্নেরেই উত্তর দিয়েছে ভারতের সংবাধমাধ্যমগুলো। তাদের মতে, সত্যিকারের বড় দলের নিয়ামক হিসেবে অনেকেই বিশ্বকাপকে মাপকাঠি বিবেচনা করেন। সেই বিবেচনায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে কোনোভাবেই ফেলে দেওয়া যায় না। দক্ষিণ আফ্রিকাকে টাইগাররা আগেও হারিয়েছে। হোয়াইটওয়াশ পর্যন্ত করেছে। সেটা নিজেদের দেশে। ইংলিশ কন্ডিশনে তাদের ওই পেস বল সামলে ৩৩০ রান তুলে ওইভাবে হারানো বাংলাদেশের জন্য একটু আলাদা অভিজ্ঞতা।
এরপর এলো দ্বিতীয় ম্যাচ। এদিন ট্রেন্ট বোল্টের সুইং, ম্যাট হেনরির ধারাবাহিক ১৪০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতির বল, সঙ্গে লকি ফার্গুসনের ‘সাপের ছোবল’ সাকিবরা কতটা স্বাভাবিকভাবে সামলান, সেটিই ছিল মূলত আলোচনায়। প্রতিপক্ষ শিবির থেকে শর্টবল আসবে। জানা ছিল। উঠবে গতির ঝড়। সেটাও ছিল জানা। এই জানা-শোনার মাঝে তামিম, মিথুন, মিরাজরা পরাস্ত হলেও রান চলে যায় ২৪৪’এ। প্রতিপক্ষ দলে এক-দুজন ভালো বোলার থাকলে তাদের দেখেশুনে খেলে দিলেই হয়। কিন্তু একসঙ্গে তিন-চারজন থাকলে আপনাকে স্কিল আর মানসিক শক্তির সর্বোচ্চ পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।
‘সত্যিকারের বড় দলে’র কাতারে আসার পথে থাকা বাংলাদেশ সেই পরীক্ষায় পাস মার্কস পেয়েছে, এটি বললে অত্যুক্তি হওয়ার কথা নয়। বুধবার ২০ থেকে ৩০ ওভারের মধ্যে বাংলাদেশ মুশফিকুর রহিমের ওই রানআউটের পরও ৬৯ রান তোলে। এই অংশটুকু আরেকটু বড় করতে পারলে নিউজিল্যান্ড আরও বিপদে পড়ে যেত।
নিউজিল্যান্ডের এই দলটি বোলিংয়ে যেমন, ব্যাটিংয়েও তেমন। তাদের ওপেনিং বোলার টিম সাউদি এখনো ইনজুরিতে। তিনি ফিরলে দলটির শক্তি কোথায় যাবে, সেটি ভাববার বিষয়। এই দলটির ব্যাটিং লাইনআপ কতটা শক্তিশালী, এবার সেই আলোচনায় আসা যাক। নিজেদের প্রথম ম্যাচে লঙ্কানদের ১৩৬ রান দেখতে দেখতে পার করে ফেলেন দুই কিউই ওপেনার কলিন মানরো এবং মার্টিন গাপটিল, মাত্র ১৬.১ ওভারে। চার নম্বরে আছেন আরেকজন। নাম তার টেইলর। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডেতে তার চেয়ে একমাত্র বিরাট কোহলির গড় ভালো (৬৮.৮)।
তাদের লোয়ার অর্ডারও যারপরনাই শক্তিশালী। এই দশকে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে কিউইদের শেষদিকের ব্যাটিং সবচেয়ে বেশি কার্যকরী। ২০১০ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের ৮ থেকে ১১ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটসম্যানের গড় ১৭.৫, স্ট্রাইক রেট ৯১। গতকালও তাদের দাপট দেখা গেছে। শেষ তিন ব্যাটসম্যান ২৩ বলে ২৭ তুলে ম্যাচ শেষ করেন। তিনজনের স্ট্রাইক রেটের গড় ১১৬.৩৪!
এমন দলের বিপক্ষে, এমন উইকেটে যারা ২৪৪ রানের লক্ষ্যে দুই উইকেটে হারে, তারা ‘সত্যিকারের বড় দল’ সেটি নিশ্চয়ই বলা যায়।
