৪ বছরের সন্তানকে পিটিয়ে মৃত ভেবে ভূট্টা ক্ষেতে ফেলে দিলেন পাষণ্ড পিতা

মারধরের কারণে অজ্ঞান হয়ে পড়া চার বছরের ছেলেকে মৃত ভেবে ভুট্টার জমিতে ফেলে গেলেন পিতা। আর সেই ছেলেকে স্থানীয় এক ব্যক্তি উদ্ধার করলে প্রাণে বেঁচে যায় সে। এমন এক ঘটনা ঘটেছে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার বেলতি গ্রামে।

জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের চরলক্ষীপুর গ্রামের মোঃ রুহুল আমিনের মেয়ে সুমাইয়ার সাথে পাঁচ বছর আগে মতলব দক্ষিণ উপজেলার বেলতি গ্রামের মরহুম কাশেম মুন্সির ছেলে ছানা উল্লাহর সাথে বিয়ে হয়।

বিয়ের পর ছানা উল্লাহ যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে চাপ দিলে মোটা অংকের টাকা দেওয়া হয়। তাদের সংসার জীবনে দুই পুত্র সন্তান সাইম (৪) ও সাঈদ (৬ মাস) জন্ম গ্রহণ করে। গত ১৭ মে ছানা উল্লাহ যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধর করলে স্ত্রী সুমাইয়া তার দুই ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যেতে চাইলে বড় ছেলে সাইমকে রেখে দেয় ছানা উল্লাহ।

২৬ মে বিকালে শিশু সাইম তার মায়ের কাছে যেতে বায়না ধরলে তার পিতা তাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে শিশু সাইম অজ্ঞান হয়ে পড়লে ছেলেকে মৃত ভেবে ছানা উল্লাহ বাড়ির পাশে গোয়ালগাবা গ্রামের এক ভূট্টার জমিতে ফেলে রেখে চলে যায়।

ওই দিন সন্ধ্যায় গোয়ালগাবা গ্রামের জিতু মিয়া গরু আনতে গেলে ভুট্টার জমি থেকে গোঙ্গানির শব্দ পেয়ে এগিয়ে যায়।পরে ওই জমি থেকে অচেতন সাইমকে উদ্বার করে। পরে অসুস্থ সাইমকে স্থানীয় লোকজন নারায়পুরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।

অপরিচিত এক ছেলে উদ্ধারের বিষয়টি স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হলে সাইমের মা খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান এবং ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই পাষন্ড পিতা ছানা উল্লাহ পলাতক রয়েছে। সাইমের মা সুমাইয়া অভিযোগে বলেন, আমার স্বামী ও শ্বাশুড়ী আমার ছেলেকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। মারধরের কারণে মরে গেছে ভেবে পাশের গ্রামের ভুট্টার জমিতে ফেলে রেখে চলে যায়। এ ঘটনায় মতলব দক্ষিণ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএমএস ইকবাল বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।