মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরপরই পশ্চিম এশিয়া বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে বিশেষ নজর দেন।
এমনকি সৌদি আরবে প্রথম সফরে গিয়ে তিনি এ অঞ্চলের ব্যাপারে তার আগ্রহের বিষয়টিকে সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন। যদিও তিনি একাধিকবার সৌদি আরবকে দুধ দেয়া গাভীর সঙ্গে তুলনা করে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
এ অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ আব্রাহাম লিঙ্কন, বি-৫২ বোমারু বিমান ও পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে সেনা সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি গতকাল জানিয়েছেন, আরো দেড় হাজার সেনা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন সময় সেনা মোতায়েনের এ ঘোষণা দিলেন যখন এ অঞ্চলে সেনা মোতায়েনের কারণে সাবেক প্রেসিডেন্টদেরকে তিনি সমালোচনা করেছিলেন। তিনি এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন নির্বাচনে জিততে পারলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন সব মার্কিন সেনাকে দেশে ফিরিয়ে নেবেন।
তবে পেন্টাগণ সেনা মোতায়েন ইস্যুতে ট্রাম্পের নীতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়টিকে গুরুত্বহীন হিসেবে তুলে ধরে জানিয়েছে, সামরিক কৌশলগত কারনে নতুন করে এসব সেনা পাঠানো হবে। পেন্টাগণ আরো জানিয়েছে, দেড় হাজার সেনার মধ্যে ৯০০ সেনা নতুন এবং বাকী ৬০০ সেনা অন্যান্য সামরিক ঘাঁটি থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সমরাস্ত্র বিষয়ক কমিটির প্রধান অ্যাডাম স্মিথ ইরানের কথিত হুমকি মোকাবেলার অজুহাতে নতুন করে এসব সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে উদ্বেগজনক অভিহিত করে বলেছেন, “কোনো কারণ ছাড়াই সেনা উপস্থিতি বাড়ানো ও সমরাস্ত্র মোতায়েন নির্বুদ্ধিতার পরিচয় এবং ইরানের সঙ্গে অযথা উত্তেজনা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য।”
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের পক্ষ থেকে আসা হুমকির কথা বলে ওয়াশিংটন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইচ্ছে করেই ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে আমেরিকা এ অঞ্চলে তার মিত্রদের কাছে আরো অস্ত্র বিক্রির চেষ্টা করছে। হোয়াইট হাউজ গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে তারা কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবে। এভাবে আরব দেশগুলোর কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতেই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার অজুহাতকে ব্যবহার করে অস্ত্র আইন বিষয়ক কংগ্রেসের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে।
এদিকে রাশিয়াও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণার সমালোচনা করেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া যাখারোভা একে তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের উস্কানিমূলক তৎপরতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন এভাবে সবাইকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে যার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। রুশ পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান ভ্লাদিমির জাবারভ বলেছেন, ১,৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন ইস্যু নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হবে। এমনকি আমেরিকার ইউরোপীয় মিত্ররাও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সুত্র: পার্সটুডে।
