দারিদ্র্যের কষাঘাত কিংবা বেঁচে থাকার তাগিদ যে কোনো পথেই নামতে বাধ্য করে মানুষকে। প্রবাদে তো স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, অভাবে স্বভাব নষ্ট। আর সেই অভাব মেটাতে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে কেনিয়ার ভিক্টোরিয়া হ্রদের নারীরা। সামান্য কয়েকটা মাছ পাওয়ার আশায় দেহ বিলাতেও দ্বিধাবোধ করে না উপায়হীন এই নারীরা। থমসন ফাউন্ডেশন কর্তৃক কেনিয়ার আবিম্বো গ্রাম নিয়ে রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের সিয়াইয়া কাউন্টিসহ সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলের দরিদ্র নারীদের অনেকেই জেলেদের সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হয় শুধুমাত্র মাছের বিনিময়ে।
যৌন সুখ দেয়ার বিনিময়ে পাওয়া মাছ বিক্রি করেই চলে তাদের সংসার।স্থানীয়ভাবে মাছের বিনিময়ে যৌনকর্মকে বলা হয় জাবোয়া। জাবোয়াকে ওই সমাজে নিচু কাজ হিসেবেই দেখা হয়। তবে এটা নিয়ে কেউ কটুক্তি করে না। এই জাবোয়ার ফলে সিয়াইয়ায় এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি চারজনে একজন। পাঁচ সন্তানের জননী ৩২ বছরের রাচেল আটিনোও এমনই একজন নারী। বছর দশেক আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসার চালাতে তাকে ‘জাবোয়া’র পথ বেছে নিতে হয়েছিল। সিয়াইয়া রাজ্যের জেলেরা সারা রাত ধরে ভিক্টোরিয়া হ্রদে মাছ ধরার পর সকালে বিক্রি করেন।
তবে নারী ক্রেতাদের মধ্যে অর্থের বিনিময়ে মাছ কিনছেন, এমনটা কমই দেখা যায়। বরং বেশিরভাগ নারীকে যৌনতা বিনিময় করতে দেখা যায়। কারণ অর্থ দিয়ে মাছ কেনার মতো সামর্থ্য তাদের থাকে না।আটিনো বলেন, অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, যে নারীরা যৌনকর্ম করতে প্রস্তুত তাদেরকে ভালো মানের মাছ দেন জেলেরা। আটিনো থাকেন আবিম্বো গ্রামে। সেখানকার অনেক নারীই জাবোয়ার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। আটিনো বলেন, ‘জাবোয়া সবসময়ই থাকবে। আগের চেয়ে বরং এর ব্যবহার বেড়েছে। কারণ অভাবের কারণে মেয়েদের আর অন্য কোনো উপায়ই থাকে না।অবশ্য আটিনোকে এখন আর জাবোয়ায় অংশ নিতে হচ্ছে না।
কারণ একটি এনজিও ওই এলাকার নারীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। তারা নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ঋণ দেয়। সেই অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভবান হলে নারীরা তা ফেরত দিয়ে আরও বড় অঙ্কের ঋণ পান। ‘চ্যালেঞ্জ আফ্রিকা’ নামের ওই এনজিওর কাছ থেকে ৫০ ডলার ঋণ পেয়েছেন আটিনো। সেই অর্থ দিয়ে মাছ কিনে এখন সেগুলো শুকাচ্ছেন। তারপর সেগুলো বিক্রি করবেন। এছাড়া গ্রামের নিকটবর্তী সোনার খনিতে শ্রমিকদের জন্য রান্নার কাজও করেন আটিনো।চ্যালেঞ্জ আফ্রিকার কান্ট্রি ডিরেক্টর এডউইন ওগিলো বলেন, তারা অসহায় নারীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেন।
সেখানে যারা ভালো করেন তাদের ঋণ দেয়া হয়।ওগিলো আরো বলেন, এই প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হল এইচআইভি সংক্রমণের উচ্চ হার কমানো, যা কিনা মাছের জন্য যৌনতার বিনিময়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ওই এলাকার লোকজনের ধারণা কেই যদি অন্যের ক্ষতি করে কিংবা কোনো অন্যায় করে তবেই সে এইডস বা স্থানীয়ভাষায় ‘চিরা’ রোগে আক্রান্ত হয়। আর এ কারণেই সেখানে যৌনকর্মে সতকর্তার কোনো বালাই থাকে না বলেও জানান ওই এনজিওকর্মী। ♦রয়টার্স’র প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে অনুবাদকৃত, সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত।
