২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে টেস্টে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব হারান মুশফিকুর রহিম। নতুন অধিনায়কের দায়িত্ব সাকিবের কাধে তুলে দেয় বিসিবি।
সেই বছর আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে পুরোপুরি ব্যর্থ ছিল টাইগাররা। যার অনেকটা দায়ভার যায় মুশফিকের কাধে।
সম্প্রতি দেশের প্রথম সারির এক গনমাধ্যমে সাক্ষাতকারে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুশফিক। সেখানে তিনি বলেছেন, অভিনয় করলে হয়তো তখন নিজের অধিনায়কত্ব বাঁচাতে পারতেন।
মুশফিক বলেন, একটা সিরিজে দল যদি সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারে, তাহলে এর দায় স্বাভাবিকভাবে অধিনায়ক-কোচের উপর পড়বেই৷ তবে আমার একার কারণে সব খারাপ হচ্ছে, সেভাবে ভাবিনি৷ ওই সফরে আমাদের কোনো ক্রিকেটার দুর্দান্ত পারফর্ম করেনি৷ একশ’, দেড়শ’ রান করেনি, পাঁচ উইকেটও নেয়নি৷ আর দক্ষিণ আফ্রিকায় খুব কম সফরকারী দলই ভালো করে৷ সেদিক থেকে আমি অবশ্যই দুর্ভাগা৷ কারণ, যে সময়টায় বাইরের সমর্থন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, সেই সময় কোনো সমর্থনই পাইনি৷
বিশেষত কোচের কাছ থেকে তো কখনোই পাইনি৷ টিম ম্যানেজমেন্টে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকেও পাইনি৷ শুধু আমার যাঁরা ঘনিষ্ট ক্রিকেটার, তাঁদের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছি৷ তামিম ও রিয়াদ ভাই– এ দুজনের কাছ থেকে পেয়েছি সমর্থন; সাকিব তো টেস্টে ছিল না৷ আমি মনে করি, ওই সময়টায় সবার সমর্থন আরো বেশি প্রয়োজন ছিল৷ আমি অধিনায়ক থাকি বা না থাকি, সমর্থন পেলে দল হিসেবে বাংলাদেশ আরো ভালো করতে পারতো৷ প্রথম টেস্টের পর সেটি হলে দ্বিতীয় টেস্টে হয়তো আরেকটু ভালো করতে পারতাম৷
তবে এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি– মেনে নিতেই হবে৷ আমিও অস্বাভাবিকভাবে নিইনি৷ খারাপ সময়ে মানুষ কিছু না হলেও অনেক কিছু ভাবে৷ আবার অনেক সময় ঘটনা না শুনেই অনেক কিছু বলে দেয়৷ তবে হ্যাঁ, আমি মনে করি, আমার কিছু কথাবার্তাও হয়তো ভুল ছিল৷ খোলামেলা অনেক কিছু বলে দিয়েছি, যা বলা উচিত হয়নি৷ সত্যি বলতে কী, তখন অভিনয় করলে হয়তো নিজের অধিনায়কত্ব বাঁচাতে পারতাম৷
