বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রধান শীর্ষ এই নেত্রীর দৈনন্দিন জীবন কাটে ইবাদত-বন্দেগি, বিটিভি দেখে এবং পত্রিকা পড়ে।
কারাগারে দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, খালেদা জিয়া ঘুম থেকে উঠে সকালের নাস্তা করেন রুটি ও সবজি দিয়ে। দেশের সার্বিক পরিস্থিত জানতে দৈনিক পত্রিকা পড়তে দেওয়া হয় তাকে। এরপর গোসল করেন, জোহরের নামাজ পড়েন। জোহরের নামাজ শেষে তিনি অজিফা পড়েন। পরে তিনি কিছুক্ষণ ডে-কেয়ার সেন্টারের বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করেন, পরে সেখানে কিছুক্ষণ চেয়ারে বসে থাকেন।
দুপুরের খাবার খান বিকেল চারটা থেকে সাড়ে চারটার দিকে। দুপুরে তাঁকে ভাত, সবজি, মাছ খেতে দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর টিভি দেখেন। তবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর কক্ষে কেবল বিটিভির সংযোগ রয়েছে। এরপর রাতের খাবার খান। রাতে তাঁকে সবজি ও রুটি, মুগ ডাল খেতে দেওয়া হয়। কোনো কোনো দিন রাতে ভাত খেতে দেয়া হয়।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদ জিয়ার জন্য খাবার রান্না করা হয়। রান্না করা এ খাবার প্রথমে উপকারাধ্যক্ষ ও কারাধ্যক্ষ খান। পরে চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর খালেদা জিয়াকে দেয়া হয়। তিন বেলাই এসব নিয়ম মানা হয়।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া কারাগারে শান্ত ও চুপচাপ থাকেন। কারা কর্মকর্তাদের কাছে তিনি কোনো চাহিদার কথা জানান না। কিছু লাগবে কি-না কারা কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় খোঁজ নিতে গেলে খালেদা জিয়া বলেন, প্রয়োজন হলে তিনিই জানাবেন।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর পাহারায় ছয়জন মহিলা কারারক্ষী তিন শিফটে নিযুক্ত রয়েছেন। এছাড়া তার নিরাপত্তায় কারাগারের ভেতরে মোট ২৫ জন কারারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।
আদালতের অনুমতি নিয়ে কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে রয়েছেন তার ব্যক্তিগত পরিচারিকা ফাতেমা। তার দেখাশোনার এবং যাবতীয় কাজ ফাতেমাই করে দিচ্ছেন।
মাঝে মধ্যে তিনি গৃহকর্মী ফাতেমার সঙ্গে গল্প করেন। কারারক্ষীদের সহায়তা নিয়ে ফাতেমা তাকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে বারান্দায় ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ান। আদালতে বা হাসপাতালে আনা নেয়াতেও হুইল চেয়ারই ভরসা।
