সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের মামলায় নিরাপরাধ জাহালমকে আসামি হিসেবে চিহ্নিত করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ৯ জন কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তাদের ৮ জনই রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। সম্প্রতি তারা পদোন্নতিও পেয়েছেন। অন্যজন প্রশিক্ষণের জন্য অস্ট্রিয়ায় অবস্থান করছেন।
সোনালী ব্যাংকের টাকা জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের ৩৩টি মামলার ২৬টির আসামি করা জাহালমকে। এর জেরে তিন বছর কারাগারে থেকে গতকাল রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে মুক্তি পান নির্দোষ জাহালম।
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ জানান,অপরাধ না করে ৩ বছর কারাভোগ করা জাহালমের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাহালমের ঘটনায় আলোচিত দুদকের এই ৯ জন তদন্ত কর্মকর্তার একজন সহকারী পরিচালক সেলিনা আক্তার মনি সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে উপপরিচালক হয়েছেন। মেফতা হুল জান্নাত উপসহকারী পরিচালক থেকে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন সহকারী পরিচালক। পদোন্নতি পেয়ে মাসুদুর রহমান সহকারী পরিচালক থেকে হয়েছেন উপপরিচালক।
উপসহকারী পরিচালক থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী পরিচালক হয়েছেন জয়নাল আবেদীন। সহকারী পরিচালক মো. নাজমুস সাদাত পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন উপপরিচালক। সহকারী পরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন হয়েছেন উপপরিচালক। উপসহকারী পরিচালক থেকে সহকারী পরিচালক হয়েছেন মো. সাইদুজ্জামান। আর উপসহকারী পরিচালক থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী পরিচালক হয়েছেন সিলভিয়া ফেরদৌস। অন্য তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক শেখ মেজবাহ উদ্দিন।
দুদক সূত্র জানায়, সহকারী পরিচালক থেকে উপরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় অবস্থান করছেন।
প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা দায়ের করে দুদক। এই অভিযোগে দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার কথা জানিয়ে চিঠি যায় জাহালমের টাঙ্গাইলের বাড়ির ঠিকানায়। চিঠি পেয়ে প্রায় ৫ বছর আগে দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে জাহালম বলেন, তিনি মামলার আসামি সালেক নন, তার নাম জাহালম।
এ সময় জাহালম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে সেদিন নিরীহ পাটকল শ্রমিক জাহালমের কথা কেউ বিশ্বাস করেননি। দুদকের ভুলে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আসামি সালেকের বদলে গ্রেফতার হন জাহালম। এরপর দুদকের এসব মামলায় সালেকের বদলে জাহালমকে তিন বছর কারাগারে থাকতে হয়। কারাবন্দি জাহালম অনেক বার আদালতে হাজিরা দিলেও তার জামিন মেলেনি। এরই মধ্যে দুদকের ৩৩টি মামলার মধ্যে ২৬টি মামলায় জাহালমকে আসামি আবু সালেক হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এসব মামলায় বিচারিক আদালতে বিচার শুরু হয়।
দুদকের মামলায় প্রকৃত আসামি আবু সালেকের বদলে নির্দোষ শ্রমিক জাহালম কারাগারে বন্দি থাকার বিষয়টি গত ৩০ জানুয়ারি বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনা হয়। আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। এরপর আদালত রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জাহালমকে দুদকের ২৬ মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন। এদিন রাতেই মুক্তি পান জাহালম ওরফে জানে আলম।–বাংলা ট্রিবিউন
