১০ মিনিটের ফটোস্যুট, ‘আকাশ সম্পর্কে বলতে চান মিতু’ (ভিডিও)

সংবাদকর্মীদের সামনে আনা হলেও কোনো কথা বলেননি ‘আত্মঘাতী’ ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতু।

তবে তিনি পুলিশের কাছে স্বামীর আত্মহত্যা এবং দাম্পত্য জীবন নিয়ে ‘কিছু কথা আছে’, যেটি বলার ইচ্ছেপোষণ করেছেন।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডা. মিতুকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের (সিএমপি) কার্যালয়ে আনা হয়। এ সময় আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং ১০ মিনিটের জন্য ফটোস্যুটের সুযোগ দেয়া হয়। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মিতুকে কোনো কথা বলতে দেয়া হয়নি।

ফটো তোলার পরপরই যে পুলিশভ্যানে আনা হয়, সেটিতে করেই মিতুকে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে দুপুর ১২টার দিকে সিএমপি’র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর নন্দনকাননে খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে মিতুকে আটকের পর প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বেশিরভাগ প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন।’

ইতোমধ্যে মিতুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমানত শাহ মাজার এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মঘাতী চিকিৎসক আকাশের ব্যক্তিগত মোবাইলটিও জব্দ করা হয়েছে। দুটি মোবাইলই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অবশ্য ডা. আকাশের ফেসবুক থেকে স্ত্রী মিতুর ‘বহুগামিতা’ এবং এ-সংক্রান্ত যেসব ছবি ও মেসেঞ্জার চ্যাটের স্ক্রিনশট আপলোড করা হয়েছিল, সেগুলো ডিলিট করে দেয়া হয়েছে।

কে বা কারা এ কাজটি করেছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান মিজানুর রহমান।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মিতু পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য জীবন এবং ডা. আকাশের আত্মহত্যার বিষয়ে তারও কিছু বলার আছে বলে জানান। আমরা তার বক্তব্য আদালতের মাধ্যমে রেকর্ড করব।’

মিজানুর রহমান বলেন, ‘মিতু এটা নিশ্চিত করেছেন, তার স্বামী আকাশ আত্মহত্যা করেছেন। তাকে কেউ হত্যা করেনি।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্তা বলেন, ‘মৃত্যুর আগে ডা. আকাশ নিজের ফেসবুকে যেসব তথ্য দিয়েছেন, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। স্ত্রী, শাশুড়ি ও বন্ধুদের বিষয়ে তার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘তদন্তে যদি ডা. আকাশের আত্মহত্যার বিষয়ে স্ত্রী মিতু ছাড়াও তার ব্রয়ফ্রেন্ডদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’

শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ডা. আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। মিতুর বিরুদ্ধে ডা. আকাশের আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ এনে চান্দগাঁও থানায় পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

পরিবার মামলা না করলে ডা. আকাশের দেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের ‘ডায়িং ডিক্লারেশন’ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একইসঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আকাশের স্ত্রী ডা. তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) মির্জা সায়েম মাহমুদ, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) দেবদূত মজুমদার, চান্দগাঁও থানার ওসি আবুল বাশার, পরিদর্শক (তদন্ত) জোবায়ের সৈয়দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার দুই নম্বর সড়কের ২০ নম্বর নিজ বাসা থেকে ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরকল এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে। এমবিবিএস শেষ করে এফসিপিএস পড়ছিলেন।