এবার চলছে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযান

‘আগে কইছিলাম ভাইঙ্গা ফালাই। তুই দিলি না। অহন তো আমার সর্বনাশ আইয়া গেছে।’ দয়াগঞ্জে রেললাইনের পাশে উচ্ছেদ অভিযানের সময় এভাবে বিলাপ করছিলেন সেখানকার এক বাসিন্দা।

ওই ব্যক্তির চারতলা বাড়ির বারান্দার বাড়তি অংশ ছিল রেলওয়ের সীমানায়। আজকের উচ্ছেদ অভিযানের সময় বারান্দার বাড়তি অংশ ভাঙতে গিয়ে ভেঙে গেছে বাড়ির অংশ।

ছয় মাস আগে তিনি নোটিশ পেয়েছিলেন বাড়ির বাড়[তি অংশ ভাঙার। কিন্তু সেটা তিনি করেননি। কেন? বাড়ির মালিক বলেন, ‘ছয় মাস আগে নোটিশ দিছিলো বাড়ি ঠিক করতে। পোলাই কইলো কিছু অইবো না। হের কারণে আমিওভি ঠিক করি নাইক্কা। অহন তো বহুত ক্ষতি অইয়া গেল গা।’

আজ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথের কমলাপুর থেকে দয়াগঞ্জ বাজার পর্যন্ত রেললাইনের দুই পাশের প্রায় দুই কিলোমিটার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে কর্তৃপক্ষ।

সকালে অভিযান শুরু হয় কমলাপুর টিটিপাড়া বস্তি থেকে। গোপীবাগ কে এম দাস লেনের বাজার ও বস্তি, গোলাপবাগ, সায়েদাবাদ, কে এম দাস লেন, গেন্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ বাজার পর্যন্ত উচ্ছেদ সম্পন্ন করা হয়।

রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতা করে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আরএনবি।

রেলওয়ের এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন রেলওয়ে (পূর্ব) বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম। হঠাৎ করে বড় পরিসরে এই ধরনের অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা ঢাকা টাইমসকে বলেন, পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল লেন করার জন্য রেলওয়ের জায়গা খালি করতে হচ্ছে। অনেক দিন ধরে জায়গা খালি করে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেউ তোয়াক্কা করেনি।’

কমলাপুর থেকে দয়াগঞ্জ বাজার পর্যন্ত কী পরিমাণ বাড়ি বা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে জানতে চাইলে ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা বলেন, ‘এই পথে প্রায় দুই কিলোমিটারের মতো রাস্তার অবৈধ স্থাপনা সরানো হয়েছে।’

আগেও অনেকবার রেললাইনের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে কিন্তু জায়গা দখলমুক্ত রাখা যায়নি। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হলে জায়গা আবার দখল হয়ে যায়। এই প্রকল্প দেরি হলেই দেখবেন জায়গা আবার দখল হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে আমাদের আবারও ব্যবস্থা নিতে হবে। এভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে আমাদেরও কষ্ট হয়।’ সাধারণ মানুষ যেন সরকারের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি না করে সেই অনুরোধও করেন এই কর্মকর্তা।

অভিযান পরিচালনা প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, গত ছয় মাস ধরে আমরা দফায় দফায় এসে নোটিস দিয়ে গেছি। কিন্তু কে শোনে কার কথা। অনেক সময় দিয়েও কেই তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি ফলে আমরা বড় ধরেণর উচ্ছেদ অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছি।

অভিযানে প্রায় সাতটি পয়েন্ট ও তিনটি বাজারসহ কমলাপুর টিটি পাড়া থেকে দয়াগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় পোণে দুই কিলোমিটারেরমধ্যে এই উচ্ছেদ অভিযান চলে। টিটিপাড়ার রেল লাইনের পাশে গড়ে উঠা বস্তি, গোপীবাগ রেললাইন সংলগ্ন বাজার, গোলাপবাগ কে এম দাস লেন সংলগ্ন বাজার, সায়েদাবাদ কে এম দাস লেন বাজার, কে এম দাস লেন সংলগ্ন অবৈধভাবে গড়ে উঠা বাড়ি, দয়াগঞ্জ বাজার, দয়াগঞ্জ রাস্তার দুই পাশের প্রায় দুইশ এর মতো বাড়ি। গেন্ডারিয়া রেললাইনে গড়ে উঠা বস্তি।

————————-
মজার মজার ভিডিও দেখুন টাচ করে