আশরাফুল ভক্তদের জন্য বিশাল সুখবর

পাঁচ বছর পর বিপিএলে ফিরে প্রথম ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে তিন রান করেছেন আশরাফুল। পরের ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে আশরাফুলের ব্যাট থেকে এসেছে ২৩ বলে ২২ রান। ইনিংসে ছক্কা নেই, তবে চার ছিল তিনটি। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে না পারা যতটানা আশরাফুলের ব্যর্থতা তারচেয়েও বেশি দায় মিরপুরের রহস্যময় উইকেটের।

এরপর বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংস খেলেছে আরো নয়টি ম্যাচ। কিন্তু একটিতেও সুযোগ দেওয়া হয়নি আশরাফুলকে। একাদশের বদলে ম্যাচের পর ম্যাচ তার জায়গা হয়েছে বেঞ্চে। ভাইকিংস দলের সঙ্গে থেকেও নেই আশরাফুল। স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ হতাশ তিনি।

একটি সূত্রের খবর, আশরাফুল নাকি টিম ম্যানেজমেন্টের প্রধানকর্তার কাছে বিপিএলে আর সুযোগ অছে কিনা জানতে চেয়েছেন। টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ঢাকায় খেলানো হবে আশরাফুলকে। তাই শুক্রবার সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে চিটাগং ভাইকিংসের সন্ধ্যার ম্যাচে আশরাফুলের একাদশে থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

ভাইকিংস দলের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, আশরাফুলকে একাদশে নেওয়ার জন্য অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও আর্জি জানিয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্টকে। অধিনায়ককেও একই তথ্য দেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- প্লেফ-অফ পর্ব নিশ্চিত করা চিটাগং ঢাকায় বাকি যে কটা ম্যাচ খেলবে তার কয়টাতে সুযোগ দেওয়া হবে আশরাফুলকে?

এবারের বিপিএলে সবচেয়ে বড় তারকাদের মধ্যে উপেক্ষিত নাসির হোসেন ও মোহাম্মদ আশরাফুল। প্রথমজন আলোচনায় নেই। কিন্তু কথা হচ্ছে দ্বিতীয়জনকে নিয়ে। অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে ক্রিস গেইল, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হকদের মতো ক্রিকেটাররা যেখানে নিষ্প্রভ থাকার পরও ম্যাচের পর ম্যাচ খেলে যাচ্ছেন সেখানে আশরাফুলের মতো প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান আশার ফুল হয়েই বেঞ্চ গরম করছেন।

বিপিএলে ভাইকিংসের একাদশে আশরাফুল থাকার যোগ্য কিনা সেটার মানদণ্ড হিসেবে নেওয়া হলো মাত্র দুটি ম্যাচকে। অথচ ঢাকার প্রথমপর্বের ওই ম্যাচ দুটিতে যখন আশরাফুল ব্যাট হাতে নেমেছিলেন তখন উইকেটে রীতিমতো বিষ ঢেলে দেওয়া হয়েছিল। ও রকম বাজে উইকেটে আশরাফুল যে একটা ইনিংসে ২২ রান করেছেন সেটাই বা কম কীসে!

আশরাফুলকে একাদশ থেকে বাদ দিয়ে যে টিম ম্যানেজমেন্ট ঠিক করেছে সেটা প্রমাণ করার জন্য আবারো সেই রহস্যময় উইকেটে ব্যাট হাতে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাকে। কী অদ্ভুত। অথচ চট্টগ্রামে ব্যাটিং স্বর্গের উইকেটে একটা ম্যাচের জন্যও খেলানো হলো না আশরাফুলকে। সেখানে খেলতে পারলে হয়তো একাদশে নিজের জায়গাটা শক্ত করতে পারতেন তিনি। আশরাফুলের পজিশনে ইয়াসির আলিকে খেলিয়েছে ভাইকিংস টিম ম্যানেজমেন্ট।

উঠতি এই ‘লোকাল হিরো’ অবশ্য নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন ব্যাট হাতে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছড়িয়ে। দলে তার অপরিহার্যতাও ফুটে উঠেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- ইয়াসিরকে আশরাফুলের বিকল্প না ভেবে তাদের ব্যাটিং অর্ডারে কি পরিবর্তন করা যেত না? আশরাফুল ভক্ত ও সমর্থকদের আক্ষেপ এবং হতাশা এই প্রশ্নেই লুকিয়ে আছে। সেটা দূর হবে কিনা প্রশ্নের উত্তরটা তোলা থাকল ভবিষ্যতের জন্য।

————————-
মজার মজার ভিডিও দেখুন টাচ করে