‘কাটার মাস্টার’ এখন ‘ডেথ মাস্টার’

কোনো বোলার এক-দুই ম্যাচে বল হাতে ভেলকি দেখিয়ে দিতেই পারেন। তখন তাকে নিয়ে অনেক আলোচনা হয়; প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়; কিন্তু ‘মাস্টার’ উপাধি পেতে হলেও ধরে রাখতে হয় ধারাবাহিকতা। যেমন অফ কাটারে বিশ্বকে চমকে দিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান হয়ে উঠেছেন ‘কাটার মাস্টার’। সাতক্ষীরার এই তরুণ এবার আরও একটি উপাধি হয়তো পাকাপাকিভাবে পেতে যাচ্ছেন- ‘ডেথ মাস্টার’। হ্যাঁ, ডেথ ওভারের বোলিংয়ে মুস্তাফিজই বিশ্বসেরা!

পরে ফিল্ডিং করে রাজশাহী কিংস জিতবে আর এতে মুস্তাফিজের ভূমিকা থাকবে না তা যেন হতেই পারে না। গত ১৩ জানুয়ারি চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের মুখোমুখি হয়েছিল কিংসরা। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভারের নাটকে। জয়ের জন্য রংপুর রাইডার্সের প্রয়োজন ১০ রান। রাজশাহী অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ তার তূণ থেকে বের করেন আসল অস্ত্রটি। বোলিংয়ে এলেন মুস্তাফিজুর রহামান। রংপুর রাইডার্সকে হতাশ করে ‘কাটার মাস্টার’ দিলেন মাত্র ৩ রান! জিতে গেল রাজশাহী।

গতকাল শনিবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা চিটাগং ভাইকিংস ঘরের মাঠে মুখোমুখি হয়েছে কিংসদের। জয়ের জন্য শেষ ওভারে স্বাগতিকদের দরকার ১৩ রান। অধিনায়ক মিরাজ ১৮তম ওভারে মুস্তাফিজকে এনেছিলেন। ওই ওভারে মাত্র ৬ রান এবং ১ উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজ। ১৯তম ওভারে কামরুলও দারুণ বল করেন। শেষ ওভারে মুস্তাফিজকে দেখে চিটাগংয়ের অনেক সমর্থকই জয়ের আশা ছেড়ে দেন। ভয়ংকর সব ইয়র্কার; বিষাক্ত কাটারের ভেলকিতে দিলেন মাত্র ৫ রান! ঘরের মাঠে চিটাগং টানা দুই ম্যাচ হারল।

মুস্তাফিজ ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট। হয়েছেন ম্যাচসেরা। এই তরুণ বাঁহাতি যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ডেথ ওভারের রাজা সেটি আজ আবারও বোঝা গেল। এবারের বিপিএলে তার শিকারের সংখ্যা বেশি নয়। তবে কিপ্টে বোলিং করে রাজশাহীর জয়গুলিতে বড় অবদান রেখে যাচ্ছেন তিনি। এই ম্যাচের পর থেকেই দেশি-বিদেশি ক্রিকেটপ্রেমীরা তাকে ‘ডেথ মাস্টার’ উপাধি দিয়ে দিয়েছে। সমর্থকদের আশা, ইনজুরিকে দূরে ঠেলে এই অসাধারণ ফর্ম জাতীয় দলের জন্য ধরে রাখবেন ‘দ্য ফিজ’।