জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গুরুতর অসুস্থ। গত কয়েকদিন ধরেই এরশাদের ক্ষুধা মন্দা বেড়েই চলেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার (২০ জানুয়ারি) তাকে নেয়া হয়েছে সিঙ্গাপুর। এরশাদের এই অসুস্থতায় জাতীয় পার্টির সকল স্তরের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে নেমেছে শোকের ছায়া। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসক ও সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা খুব বেশি কিছু করার নেই বলেই মন্তব্য করেছেন। চিকিৎসার পরিভাষায় এটাকে বলা হয় বার্ধক্যজনিত রোগ।
১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এরশাদ জন্মগ্রহণ করেন। এ বছর তিনি নব্বইয়ে পা দেবেন। নয় বছর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রাখা এই সামরিক একনায়ককে ‘স্বৈরাচারী শাসক’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। ৯০ এর গণ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এরশাদ কিছুদিন কারাবরণ করলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি এখন পর্যন্ত একজন গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। অসুস্থ এরশাদকে দেখতে সিএমএইচে গিয়েছিলেন তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা।

এ প্রসঙ্গে বিদিশা বলেন, আমি ভারতে আসার আগে উনার সঙ্গে দেখা করে এসেছি। আমি তাকে দেখতে সিএমএইচে গিয়েছিলাম। আমাকে দেখে খুব খুশি হয়েছিলেন তিনি। প্রায় ৪০ মিনিট উনি (এরশাদ) আমার হাত ধরে বসে ছিলেন। তিনি এখন আজমির শরিফে রয়েছেন। দোয়া চেয়েছেন দেশবাসীর জন্য, দোয়া চেয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জন্য। প্রিয় মানুষ এরশাদের অসুস্থতায় ভীষণ ভেঙে পড়েছেন তিনি। বিষণ্নতা গ্রাস করেছে বিদিশাকে। তাই এরশাদের সুস্থতা কামনায় ভারতের আজমির শরিফে দোয়া করেছেন।
গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে বিদিশা জানান, তার মনটা এখন খুব খারাপ। এইচ এম এরশাদ সম্পর্কে বিদিশা বলেন, উনি (এরশাদ) আমার ছেলের বাবা। উনার সবচেয়ে বড় পরিচয় উনি আমার সন্তান এরিকের পিতা। উনি ভালো না থাকলে আমার ছেলে ভালো থাকবে না। আর ছেলে ভালো না থাকলে আমি ভালো থাকবো না।
বিদিশা বলেন, একদিন দুনিয়া থেকে আমাদের সবাইকে চলে যেতে হবে। উনার (এরশাদ) সঙ্গে আগে আমার আগে কী হয়েছে না-হয়েছে সেই বিচার তো এখন আমি করবো না। উনি উনার সন্তানকে ভীষণ ভালবাসেন। মা-বাবা দুজনের ভালবাসা দিয়েই তিনি এরিককে আগলে রেখেছিলেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি এরিককে হাতছাড়া করেননি। এটাই আমার জীবনের একটি বড় পাওয়া।
সূত্র: দৈনিক জাগরণ
