নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অর্থের প্রয়োজন। আর এই অর্থের পরিমান দেশে দেশে কম-বেশি হয়। জনসংখ্যা, অর্থনীতির আকারের কারণে নির্বাচনী ব্যয়ের পরিমানে হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী ব্যয় সবচেয়ে বেশি। জনসংখ্যা ও অর্থনীতির দিক দিয়ে এরপর জাপান, চীন ও ভারত ও ব্রাজিলের অবস্থান। বলা হয়ে থাকে প্রতিটি নির্বাচনের ব্যয়ই আগের নির্বাচনের তুলনায় বেশি। সেই হিসেবে ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যয় দেশটির পূর্ববর্তী সব নির্বাচনী ব্যয়কে ছাড়িয়ে গেছে। বহু রেকর্ডের ওই নির্বাচনে ব্যয় করা হয় ৫ বিলিয়নের ডলারেরও বেশি অর্থ।

ওই নির্বাচনের ব্যয় আকাশচুম্বি করার পেছনে মূল ভূমিকা রাখেন ডেমোক্রেটিক দাতারা। নির্বাচনে অর্থ ব্যয়, লবিং সংক্রান্ত বিষয়গুলো চিহ্নিত করে এমন একটি অমুনাফাভোগী গবেষণা সংস্থা ওয়াশিংটন ভিত্তিক দ্য সেন্টার ফর রেসপনসিভ পলিটিকস (সিআরপি) পূর্ভাবাস দিয়েছিল নভেম্বরের ৬ তারিখ পর্যন্ত নির্বাচনী ব্যয় ৫ দশমিক ২ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যা কিনা ২০১৪ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সংগঠিত ব্যয়ের চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেশি। আর ব্যয় বৃদ্ধির এ হার কমপক্ষে দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। গবেষণা সংস্থাটির মতে, নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দল সংগ্রহ করেছে ৯শ ৫১ মিলিয়ন ডলার। অপরদিকে তাদের প্রতিদ্বন্ধী রিপাবলিকানদের সংগৃহীত তহবিলের পরিমান ছিল ৬শ ৩৭ মিলিয়ন ডলার।
৫ বিলিয়ন ডলার শুধু একটি সংখ্যাতো নয়। অনেক টাকা। কিন্তু কত ? বিশাল সংখ্যার এ টাকায় কি বা কতটুকু সম্পত্তির মালিকানা লাভ করা যেতে পারে তা জানা গেলে ধারণা পাওয়া যাবে ৫ বিলিয়ন ডলার আসলে কি পরিমান টাকা।
হোয়াইট হাউস

রিয়েল স্টেট লিস্টিং ফার্ম জিলোর মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভূমি হোয়াইট হাউসের সম্পত্তি মূল্য ৩শ ৯৮ মিলিয়ন ডলার। তারমানে ৫ বিলিয়ন ডলার দিয়ে আপনি ১৫টির বেশি হোয়াইট হাউস অনুরূপ সম্পত্তি ক্রয় করতে পারবেন।
অবশ্যই হোয়াইট হাউস কেনার চিন্তার সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট হবার কথা ভাবতে যাবেন না। কেননা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হবার কোন অর্থমূল্য হয় না। একে অমূল্যই বলতে হবে।
রাজপ্রাসাদ

যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের আবাস ও প্রশাসনিক সদর দপ্তর বাকিংহাম রাজপ্রসাদ। লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টারে এটি অবস্থিত। রাজকীয় এই প্রাসাদের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
তারমানে ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ৩টি (আসলে ৩.৫০টি) বাকিংহাম প্রাসাদের মালিক হওয়া যাবে। আর আপনি যদি স্কটল্যান্ডে থাকা রাণী দ্বিতীয় এলিজাভেদের রাজপ্রসাদ কিনতে চান তবে ওই টাকায় মোটামুটি ৩৫ খানা প্রসাদ কিনতে পারবেন!
ব্যক্তিগত জেট

বিলিয়ন ডলার হাতে থাকার পরও ব্যক্তিগত জেট না থাকলে কিভাবে হবে।
এয়ারবাসের বাণিজ্যিক বিমানের সর্বোচ্চ মূল্য ৪৪৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে ৫ বিলিয়ন ডলারে ১১খানা এয়ারবাস কেনা যাবে।
বাহামায় ব্যক্তিগত দ্বীপ

বিশ্বজুড়ে ধনকুবেরদের অনেকেই ক্যারিবিয়ান এলাকাতে ব্যক্তিগত দ্বীপের মালিক। এই মুহুর্তে অনলাইনে বাহামার যে সুন্দর দ্বীপটি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে সেটি হলস অব পন্ড কে। ৪শ ৬০ একর আয়তনের এই দ্বীপটির মালিকানা পেতে গুনতে হবে মাত্র ৭৫ মিলিয়ন ডলার।
তারমানে ৫ বিলিয়ন ডলারে ৬৭ খানা অনুরুপ দ্বীপের মালিকানা পাওয়া যাবে।
বিশ্বের সবচেয়ে দামি গাড়ি

বিশ্বের সবচেয়ে দামি গাড়ি ১৯৬৩ ফেরারি ২৫০ জিটিও। গাড়িটি রেকর্ড ৭০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। ৫ বিলিয়ন ডলারে ৭১ খানা ফেরারির মালিকানা পাওয়া যাবে।
মহাকাশে অবকাশযাপন

বিত্তবানদের অনেকেই অবকাশ যাপনের জন্য দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ান। তাই বলে পৃথিবীর ছাড়িয়ে কোথায় যাওয়া যাবে না তাও এখন আর সত্য নয়। মাত্র ৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ করলেই পরিবারসহ মহাকাশে গ্রীষ্মের ছুটিতে বেড়িয়ে আসা যাবে।
২ দিনেই পৌঁছানো যাবে আর্ন্তজাতিক স্পেস সেন্টারে।
সূত্র: সিএনএন ও রিডার্স ডাইজেস্ট অবলম্বনে আনোয়ার হোসেন
