ময়মনসিংহের ফুলপুরে বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভীতি সৃষ্টি করে একটি বাঘ। দিনভর নানাভাবে উদ্ধার ও নাটকীয়তার পর অবশেষে রাত সোয়া ৮টার দিকে সুরঙ্গ থেকে সকলের সামনে দিয়ে লোকালয় ছেড়ে পালিয়েছে বাঘ। এতে এলাকায় নতুন করে বাঘ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, উপজেলার সাহাপুর গ্রামে মহেশ কোহালীর বাড়ির জঙ্গলে ভোরে বিরল প্রজাতির দুটি বাঘের সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজন বাঘ দুটি ধরতে না পারায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে।
এদিকে বাঘ ধরা পড়লেও না মারার জন্য মাইকিং করে নিষেধ করা হয় উপজেলা প্রশাসন থেকে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাহাপুর গ্রামে জঙ্গল থেকে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে দুটি বাঘ বের হয়ে চারটি কুকুরকে আক্রমণ করে। তখন কুকুরের শব্দ শুনে বাড়ির লোকজন বের হয়ে তা দেখে বাঘ দুটোকে মারার জন্য ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে বাঘ দৌড়ে জঙ্গলে একটি গাছের উপর উঠে। কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে নেমে বাঘ জঙ্গলের ভেতর লুকিয়ে পড়ে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত নারী-পুরুষ বাঘকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমান।
সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহবান জানান। আবার বাঘের দেখা পেলে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে, বাঘ আটক না হওয়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করে। এলাকাবাসীর ধারণা বাঘ আবার বের হয়ে যে কোনো সময় মানুষকে আক্রমণ করতে পারে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাঘগুলো আটক করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি, বাঘ দেখতে পাইনি। তবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। বাঘ ধরার জন্য চেষ্টা চলছে। বিষয়টি ডিসি স্যারকে অবগত করলে বাঘ মারা যাবে না বলে তিনি নির্দেশনা প্রদান করেন। বাঘ যদি আবার লোকালয়ে আসে, তবে তাদের ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে।
ভারতের গারো পাহাড় থেকে পথ হারিয়ে বাঘ লোকালয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।
