গুরুর মৃত্যুতে স্তব্ধ শচীন

বিশ্বকাপজয়ী কোচ ছিলেন না। তবে কখনও কোনো জাতীয় দলকে কোচিং করাননি। তবু তিনি বিশ্বজয়ী কোচ। দুই যুগ ব্যাট হাতে বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করা শচীন টেন্ডুলকারের ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয়েছিল যে তার হাতে। শচীনও আজীবন গুরুর সম্মান দিয়েছেন তাকে। শচীন-সূত্রে ক্রিকেট ইতিহাসে জড়িয়ে যাওয়া সেই রমাকান্ত আচরেকার আর নেই। বুধবার ৮৬ বছর বয়সে তিনি মুম্বাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

২০১৩ সালে স্ট্রোক করার পর থেকেই তার চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছিল। ছিল বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যাও। তার শিষ্যদের মধ্যে শচীন ছাড়াও ভারতের জাতীয় দলে খেলেছেন অজিত আগারকার, বিনোদ কাম্বলি, রমেশ পাওয়ার, প্রবীন আমরিরা।

আচরেকারের মৃত্যুতে তার সেরা শিষ্য শোকে স্তব্ধ। শচীন যে ছেলেবেলার সেই দিনগুলির কথা ভুলে যাননি। চোখ বুঝলেই আচরেকারের সামনে তার ছুটোছুটি আর টেকনিক নিয়ে কাজ করার সেই স্মৃতি ভেসে ওঠে, ‘তার থেকেই আমার ক্রিকেটের হাতেখড়ি। তার অবদান বলে শেষ হওয়ার নয়। স্যারের তৈরি করা ভিতে আমি দাঁড়িয়ে আছি। তিনি আমাদের সোজা ব্যাট চালাতে শিখিয়েছিলেন। জীবনও।’

শচীন সেই ছেলেবেলায় হতে চেয়েছিলেন বোলার। রমাকান্ত আচরেকার তাকে বানিয়েছেন বিশ্ব সেরা ব্যাটসম্যান। সর্বকালের অন্যতম সেরাও কি নয়! আচরেকারের আরেক ছাত্র বিনোদ কাম্বলি যার প্রতিভা ছিল টেন্ডুলকারের মতোই। কিন্তু সেই প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তিনি। তবে আচরেকারের সৃষ্টি তিনিও, ‘আমার ক্রিকেটীয় সত্তার জন্ম আচরেকার স্যারের হাতেই। আপনার অভাব অনুভব করব সব সময়ই। ওপরেও শান্তিতে থাকুন।’ ক্রিকেটার গড়ায় এই কারিগরকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করেছে ভারত সরকার।সূত্র সমকাল