মাশরাফি তখন জিমনেশিয়ামে ভারি সাইকেলের মত আসনে বসা। আশরাফুল সেখানে প্রবেশ করে কোন দিকে না তাকিয়ে একদম সোজা চলে গেলেন মাশরাফির কাছে। সেখানে গিয়েই এমপি মাশরাফিকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। ভালবাসার উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ হলেন দুই বন্ধু।
মাশরাফিও বন্ধু আশরাফুলকে কাছে টেনে নিলেন। কেন নেবেন না? কত দিনের সম্পর্ক! সেই ২০০০ সালে প্রথমে অনূর্ধ্ব-১৭, এরপর ২০০১ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে এক সাথে খেলে জাতীয় দলে একযুগের বেশি সময় ধরে খেলা দুই বন্ধু তারা।
শুধু বন্ধু বলা বোধকরি কম হয়ে গেল। আশরাফুল আগেও জানিয়েছিলেন আজও বলে উঠলেন, আমরা ১৩ বছর জাতীয় দলে রুমমেট ছিলাম। কখনো রুম আলাদা হলেও মধ্যরাত পর্যন্ত একরুমেই কাটতো। আড্ডা, গালগল্প আর সময় কাটানো সবই হতো একত্রে।
সম্বোধনটাও আন্তরিক। কখনো ‘বন্ধু’, আবার কোন সময় ‘দোস্ত’। সেই কাছের বন্ধু, রুমমেট মাশরাফি এখন জাতীয় সংসদ সদস্য, তাকে ভালবাসায় সিক্ত করতেই বাড়তি আবেগ-উচ্ছ্বাস যেন উপচে পড়লো আশরাফুলের কাছ থেকে।
আলিঙ্গনাবদ্ধ আশরাফুল বলেই উঠলেন, ‘আরে বন্ধু! তুইতো এখন মেম্বার অব পার্লামেন্ট। পুরো বিষয়টা অনেক গর্বের এবং ভালো লাগার। খুব ভাল লাগছে, অনেক ভাল। সংসদ সদস্য হিসেবেও তোর সাফল্য কামনা করছি।’
তারপরও প্রায় পাঁচ-সাত মিনিট জিমে অবস্থানকালে মাশরাফির হাত ধরেই ছিলেন আবেগতাড়িৎ আশরাফুল। পাশে থাকা সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন, ‘আমরা কিন্তু অনেক পুরনো বন্ধু। সেই যুব দলের হয়ে খেলতে খেলতে বন্ধুত্ব। জাতীয় দলে খেলার সময় আমি আর মাশরাফি টিম হোটেলে রুম শেয়ার করতাম। সময় কাটাতাম একসাথেই। সেই বন্ধু সংসদ সদস্য হয়েছে, তাও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতে। এটা অনেক ভাল লাগার। গর্বেরও।’
আশরাফুলের দল চিটাগাং ভাইকিংস প্র্যাকটিস করছিল পাশের মাঠেই। সেই প্র্যাকটিসেই খবর পেয়েছেন তিনি যে, মাশরাফি এসে জিমে ঢুকেছেন। অমনি ছুটে আসলেন তাকে অভিনন্দন জানাতে।
মাঝে আশরাফুল অনৈতিক পথে হাঁটায়, ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় খুবই অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন মাশরাফি। কথা-বার্তায়ও মনে হতো আশরাফুলের প্রতি খুব রাগান্বিত। এরপর আশরাফুল ভুল স্বীকার করে জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করার পরও মন গলেনি মাশলাফির। মনে মনে আশরাফুলের ওপর ক্ষুব্ধই ছিলেন তিনি।
তবে মনে হয় সময়ের প্রবাহমানতায় সে রাগ, অভিমান আর ক্ষোভ কমে গেছে অনেকটা। তাইতো নিষেধাজ্ঞামুক্ত আশরাফুল যখন গত বছর প্রিমিয়ার লিগের শুরুতে রান পাচ্ছিলেন না, তখন সত্যিকার বন্ধুর মত পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন মাশরাফি। কলাবাগানের হয়ে শুরুতে রান পাওয়া আশরাফুলকে বলেছিলেন, ‘আরে তুই তো মুটিয়ে গেছিস দোস্ত। আগে ওজন কমা। পরিমিত খাবার খা। ভাত ছেড়ে দে। দেখবি ওজন কমে শরীর ঝরঝরে হয়ে যাবে। তখন ভাল খেলতে পারবি।’
প্রিয় বন্ধুর সে পরামর্শ অব্যর্থ টনিকের মত কাজ করেছিল আশরাফুলের জন্য। খাওয়া কমিয়ে ভাত না খেয়ে আশরাফুল ওজন কমিয়ে পাঁচ-পাঁচটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রীতিমত হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন।
আজও আশরাফুলের আবেগ-উচ্ছ্বাসের জবাবে মাশরাফিও বন্ধুবাৎসল্যেই বললেন, ‘আরে দোস্ত থ্যাঙ্কস! কেমন আছিস? দোয়া করিস, যেন আমার নড়াইলবাসীর জন্য কিছু করতে পারি। এলাকার জন্য কাজ করতে পারি।’-জাগোনিউজ২৪
