আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সময় ভোট কেন্দ্রে মোবাইল নেয়া গেলেও তা বন্ধ রাখতে হবে, বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘ভোটাররা ভোট দেয়ার সময় কেন্দ্রে মোবাইল বহন করতে পারবেন। তবে কেন্দ্রে প্রবেশের সময় সেটি বন্ধ করে ফেলতে হবে। ভোট শেষে বের হয়ে তা চালু করতে পারবেন।’
তিনি বলেন, ‘ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে ভোটাররা চাইলে সঙ্গে মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন। ভোট কেন্দ্রের ভেতরে তা বন্ধ করে রাখতে হবে। ভোটাররা কোনোভাবেই বুথ ও কেন্দ্রে ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।’
শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা এ বিষয়ে আগামীকাল একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবো। নির্বাচন নিয়ে কোনও শঙ্কা নেই। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আরও হবে।
তিনি বলেন, ভোট দিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজন পড়বে না। তবে ভোটারের এনআইডি নম্বর, ভোটার নম্বর বা স্মার্ট কার্ড সঙ্গে থাকলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বের করতে সুবিধা হবে।
শনিবারের মধ্যে ইসি একটি ফোন নম্বর দেবে, যেখানে এসএমএস করে একজন ভোটার নিজের ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্র জেনে নিতে পারবেন।
ইসি সচিব জানান, ভোটের দিন ইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো মোটরচালিত যানবাহন চলবে না। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী, সরকারি গাড়ি, সেবা সংস্থা যেমন- ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদপত্রবাহী গাড়ি এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, দুর্নীতি মামলার সাজায় কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভোট দেওয়ার জন্য পোস্টাল ব্যালটের আবেদন করেছেন কিনা তা তার জানা নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বলতে পারবেন।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়ার বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই ফলাফল ঘোষণা হবে। প্রিজাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণ শেষে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রেই ভোট গণনা করবেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রার্থীর এজেন্টেরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার লিখিত ফলাফল সংশ্লিষ্টদের সরবরাহ করবেন।
পরে এ ফলাফল রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হবে। রিটার্নিং অফিসাররা তা ইসিতে পাঠাবেন। ইসির ফোয়ারা প্রাঙ্গণে স্থাপিত মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে। ওই চত্বরে ইসি দশটি মনিটরের মাধ্যমে ফলাফল প্রদর্শন করবে।
‘নির্বাচনের নিরাপত্তায় ইসির তরফে প্রায় ৭ লাখের কাছাকাছি নিরাপত্তা সদস্য, ৭ লক্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ও ১ লাখ পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক ও অন্যান্যরা থাকবেন। আশা করি, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হবে।’
পোলিং অফিসাররা সকাল ৮টার আগেই প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে নিয়োগপত্র দেখাবেন। এসব বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ইসি ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
ইসি সচিব বলেন, ‘ইসি ইতোমধ্যে যতগুলো অভিযোগ পেয়েছে, সবই তদন্ত কমিটির কাছে পাঠিয়েছে। ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপারের কাছে আইজিপির মাধ্যমে। অনেক ক্ষেত্রে মামলা দায়েরেরও নির্দেশনা দিয়েছি।’
