ঢাকা-১ আসনে ভোট কারচুপি জায়েজ করতে সাংবাদিক হটাও চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে খোদ নবাবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
এই চক্রান্ত সফল করতে নিরীহ সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর এবার আলটিমেটাম দিয়ে মঙ্গলবার বিকালে তাদের হোটেল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। নবাবগঞ্জের ইউএনও তোফাজ্জল হোসেনের চিঠির সূত্র ধরে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই মনে করছেন, ভোট কারচুপির মাধ্যমে সরকারি দলের প্রার্থীকে জেতানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘সাংবাদিক হটাও’ মিশনে নেমেছে গোটা প্রশাসন। এই বিষয়টি দোহার-নবাবগঞ্জের প্রায় প্রতিটি গ্রামের সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সোমবার রাতে নবাবগঞ্জে শামীম গেস্ট হাউসে অবস্থানরত সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা করে সন্ত্রাসীরা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খবর সংগ্রহের জন্য ঢাকা থেকে আসা গণমাধ্যমকর্মীরা এই গেস্ট হাউসে অবস্থান করছিলেন।
এ ঘটনার একদিন পর মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ করে শামীম গেস্ট হাউস খালি করে দিতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় পুলিশ। স্থানীয়রা মনে করছেন, সাংবাদিকরা অবস্থান করলে ‘ভোট কারচুপির গোমর’ ফাঁস হয়ে যেতে পারে।
এ আশঙ্কা থেকেই প্রথমে সশস্ত্র হামলা এবং পরে সাংবাদিকদের হোটেলছাড়া করা হয়। এখন গণমাধ্যমকর্মীদের দোহার-নবাবগঞ্জ ছেড়ে যেতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি সাংবাদিকদের ‘বহিরাগত’ আখ্যা দেয়ারও চেষ্টা করছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার বিকালে হোটেল খালি করার নির্দেশনার ঘটনায় সাংবাদিকরা হতভম্ব হয়ে যান। এ ধরনের আদেশের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ কোনো উত্তর না দিয়ে বলে, ‘উপরের নির্দেশ’।
পরে জানা গেল, এই নির্দেশ এসেছে খোদ ইউএনও তোফাজ্জল হোসেনের কাছ থেকে। তিনি একটি চিঠি পাঠিয়ে হোটেল খালি করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে নবাবগঞ্জের অন্য হোটেল মালিকদেরও সাংবাদিকদের ভাড়া না দিতে মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শামীম গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মঙ্গলবার দুপুরের পর হঠাৎ করে পুলিশ এসে তাদের জানায়- হোটেলে অবস্থানরত সাংবাদিকদের ২০ মিনিটের মধ্যে হোটেল ছেড়ে যেতে হবে।
অন্যথায় পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। এরপর তারা সাংবাদিকদের এ বিষয়টি অবহিত করেন। নবাবগঞ্জে অবস্থানরত যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি মুজিব মাসুদ বলেন, আমরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের হোটেল থেকে ফোন দিয়ে জানায়, আপনারা যেখানেই থাকেন, তাড়াতাড়ি আসেন।
২০ মিনিটের মধ্যে হোটেল ত্যাগ করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা আমাদের আরও আতঙ্কিত করেছে। পরে আমরা হোটেল ছেড়ে দিতে বাধ্য হই।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনের আগে বহিরাগত কাউকে এলাকায় অবস্থান করতে দেয়া হবে না। এজন্য হোটেল খালি করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে কিনা- জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, একটি নির্বাচনী আসনে বাইরে থেকে বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক আসার যৌক্তিকতা নেই। স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই নির্বাচনের খবর সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শামীম গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো চিঠিতে নবাবগঞ্জের ইউএনও তোফাজ্জল হোসেন বলেছেন, নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট ও ভিআইপিরা অবস্থান করবেন।
অবস্থানকালীন তারা গেস্ট হাউস ব্যবহার করবেন। এজন্য গেস্ট হাউসটি অন্য কোথাও ভাড়া দেয়া যাবে না এবং থাকার উপযোগী করে প্রস্তুত রাখতে হবে। উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এই গেস্ট হাউস কাউকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া যাবে না।–যুগান্তর
