ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, সারাদেশে প্রচার প্রচারণায় ততই বাড়ছে উত্তাপ। সেই সাথে বড় দুই দলের প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাংচুর ও নির্বাচনি ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগেরও খবর পাওয়া গেছে। তার সাথে বিরোধী দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত নেতাকর্মীদের নানাভাবে চরম হয়রানির অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
এদিকে আগামীকাল (২৪শে ডিসেম্বর) থেকে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামার কথা সশস্ত্র বাহিনী। নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার পাশাপাশি অনাকাঙ্খিত কোন পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে। প্রয়োজনে অপরাধীদের গ্রেফতারও করতে পারবে।
এ ব্যাপারে গত শুক্রবার রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, পর্যাপ্ত ক্ষমতা নিয়েই মাঠে নামবে সেনাবাহিনী। ভোটের সময় পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারবে। যে কোন ব্যক্তিতে আটক এবং সহিংসতা প্রতিরোধে গুলি চালাতে পারবে। পরে ম্যাজিষ্ট্রেট বিষয়টি বিবেচনা করবে।
** ভোটের মাঠে সশস্ত্র বাহিনী জনপ্রতিক্রিয়া**
নির্বাচনের মাঠে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর। কেননা দেশের মানুষ মনে করেন সশস্ত্র বাহিনী হচ্ছে সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রতীক। জনগণের তাদের প্রতি একটি ভরসা আছে।
আসুন এরার নির্বাচন ও সেনাবাহিনী নিয়ে কি ভাবছে সাধারণ মানুষ তাদের সঙ্গে কথা বলি।
রাজধানী বাড্ডায় রিকশাচালক বাচ্চু মিয়া বলেন, সেনাবাহিনী মাঠে নামলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে। তাদের সামনে কোনো ঝামেলা হোক- এটা তারা মেনে নেবে না। কারণ, বিশ্বে তাদের একটা গ্রহণযোগ্যতা আছে। তারা সেটা নষ্ট করতে চাইবে না।
বানানীতে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের পিয়ন শ্যমল দাস বলেন, বিরোধী দল এখন মাঠে নামলে যারা হামলা চালায় সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে তখন তারা সেই সাহস পাবে না। তখন বিএনপি প্রচারণা চালাতে পারবে।
চা বিক্রেতা বাবুল হোসেন বলেন, বিরোধী দলের প্রার্থীদের কি নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অধিকার নেই। তাদের ওপরে গণহারে হামলা-মামলা করা হচ্ছে। প্রকাশ্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। পুলিশ বাহিনী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। এখন শেষ ভরসা সেনাবাহিনী। তারাই পারে পরিস্থিতিটা স্বাভাবিক করতে।
উত্তরার ব্যবসায়ী হাসেম বলেন, সেনাবাহিনী নামলে এরকম পরিস্থিতি থাকবে না। তাদের সামনে কোনো দলের লোকই মারামারি করতে পারবে না। সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের একটা ভয় কাজ করে। অনিয়ম-অবিচার হলে তারা সেটা বরদাস্ত করবে না।
টঙ্গীর গৃহিণী হাসিনা বেগম। তিনি বলেন, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ভোটের আয়োজন করে কী লাভ? যদি না মানুষ পছন্দের প্রার্থীকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে। তবে আশা আছে, সেনাবাহিনী মাঠে নামলে একটা ভালো পরিবেশ তৈরি হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফাহমিদা আক্তার শ্রাবণী বলেন, আমি নেত্রকোনার ভোটার। ভোট হলো জনগনের অধিকার। সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমকে সাধারণ মানুষ ভয় পায়। একারণে কেউ মারামারি করবে না। তখন আওয়ামী লীগ-বিএনপি সকলেই মাঠে নামতে পারবে।
আইনের শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান মনে করেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। আমি মনে করে সেনা মাঠে নামলে এই দেশের সাধারণ মানুষের বিতরে এই মুহূর্তে যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার অবসান হবে।
গ্রামের স্কুল শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক কামলাপুর ট্রেনের জন্য অপেক্ষায়। তিনি বলেন, আমরা চাই সেনাবাহিনী আসুক। তারা এলে সবাই নির্ভয়ে থাকবে। গ্যাঞ্জাম-ফ্যাসাদ হবে না।
ব্যাংকার নির্জন হওলাদার মনে করেন, সরকার ক্ষমতার যত্রতত্র ব্যবহার করছে, যার জন্য নির্বাচনে বিরোধী দল কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না। এটা কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়।
গ্রাম থেকে মিরপুরে পোশাক কর্মী আমেনার কাছে আসা দিনমজুর বাবা করিম। তিনি বলেনসেনাবাহিনী যদি মাঠে নেমে সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করে তবে ভোট দিতে যাব।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এবার ইসির নিবন্ধনে থাকা ৩৯টি দলই প্রার্থী দিয়েছে। দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন ১ হাজার ৮৪৭ জন।–গোনিউজ২৪
