স্বামীকে খুন করে মৃতদেহের সঙ্গে রাত কাটান অদিতি

ভারতের গেছেগলায় শাড়ির ফাঁস দিয়ে প্রাক্তন স্বামীকে খুন করে সেই মৃতদেহের সঙ্গে রাত কাটান বছর চল্লিশের নারী। তারপর ভোরের আলো ফুটতেই চুপচাপ দরজা চেপে রেখে সোজা চলে যান নিজের বাড়িতে। সেখানে গোসল করে নিজের কর্মক্ষেত্র এয়ারপোর্টে চলে যান। সারা দিন সেখানে তিনি কাজও করেন। ঘুণাক্ষরেও কেউ টের পাননি যে কয়েক ঘণ্টা আগেই স্বামীকে খুন করে এসেছেন তিনি।

বহুল আলোচিত প্রতুল চক্রবর্তীর খুনের রহস্যের কিনারা করতে গিয়ে এই তথ্য তাজ্জব করে দিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার হয় প্রতুলের।

মাত্র চারদিন আগেই পানিহাটি পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর এলাকায় শ্যামল মজুমদারের বাড়ির দোতলায় ঘর ভাড়া নেন ৫২ বছরের প্রতুল। তিনি নিজেকে গুরুগ্রামের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার কর্তা। সোদপুরে ওই সংস্থার একটি শাখা অফিস খোলা হবে। তাই তিনি কিছুদিন পানিহাটিতেই থাকবেন।

বারবার ডাকার পর প্রতুলের কোনও উত্তর না পাওয়ায় তিনি শ্যামলকে ডাকেন। এর পর তারা চাপানো দরজা ঠেলে ঢুকে দেখেন, প্রতুলের নিথর দেহ পড়ে রয়েছে বিছানায়। গলায় শাড়ির ফাঁস।

তদন্তে নেমে প্রথমেই পুলিশ আটক করে শ্যামলকে। জানা যায় অমিতাভ রায়চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে শ্যামলের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতুলের। কিন্তু প্রথমেই তদন্তে হোঁচট খেতে হয় পুলিশকে। এক তদন্তকারী বলেন, নিহত ব্যক্তির নাম এবং গুরুগ্রাম ছাড়া আমাদের কাছে কোনও তথ্য ছিল না। সেই অবস্থায় সামান্য আলোর দেখা পান গোয়েন্দারা।

এক তদন্তকারী বলেন, মৃতের ঘরে তল্লাশি চালাতে গিয়ে আমরা একটি নারীদের রুমাল এবং বাগুইআটি এলাকার একটি হোটেলের বিল খুঁজে পাই।নারীর উপস্থিতি জানার পরই খড়দহ থানার আইসি মৃত্যুঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেন। বৃহস্পতিবার বিকালেই পুলিশ বাগুইআটির ওই হোটেলে যায়। সেখানে প্রতুল আধার কার্ডের ফটোকপি দিয়েছিলেন। সেখান থেকে কাশীপুরের একটি ঠিকানা পান তদন্তকারীরা। সেই ঠিকানায় গিয়ে পুলিশ জানতে পারেন প্রতুলের স্ত্রী অদিতি চক্রবর্তীর কথা।

এয়ারপোর্ট অথরিটির পদস্থ কর্মী অদিতিকে এর পর জেরা করা শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারীরা অনেকটাই নিশ্চিত ছিলেন যে, খুনের পেছনে কোনও নারীর ভূমিকা আছে। শেষ পর্যন্ত রাতভর জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেন অদিতি। পুলিশকে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে খুন করেছেন। আজ শুক্রবার অদিতিকে ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হয়। ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি জোন (২) আনন্দ রায় বলেন, আমরা ওই নারীকে জেরা করছি। কেন তিনি খুন করলেন তা আমরা দেখছি।সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা