টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন লিটন দাস। তার সঙ্গে ওয়ান ডাউনে যোগ দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার। দুজনের বিধ্বংসী ব্যাটিং দলকে ভালো ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বাকী কাজটুকু করে যাচ্ছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুজনের ব্যাটে বড় সংগ্রহের পথে টিম টাইগার। ১৭ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৮০ রান।
অন্যপ্রান্তে থাকা দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল আগের ম্যাচের মতোই জীবন পেয়ে কাজে লাগাতে পারেননি। বাঁহাতি স্পিনার ফ্যাবিয়ান অ্যালেন বলটি তামিম উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন কটরেলের হাতে। ভাঙে ৪২ রানের ওপেনিং জুটি। বিধ্বংসী লিটন দাসের সঙ্গী হন সৌম্য সরকার। টাইগারদের রানের গতি যেন আরও বেড়ে যায়।
পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছে ৬১ রান। লিটনের অবদান ১৯ বলে ৪১। ২৬ বলে ৫টি চার এবং ৪টি ছক্কায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন দাস। এই উইন্ডিজের বিপক্ষেই সর্বশেষ সিরিজে ২৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন লিটন। আজ অপর প্রান্তে জ্বলে ওঠেন সৌম্য সরকারও। উইকেটের চারদিকে দেখা যায় দৃষ্টিনন্দন সব শট। ১০.১ ওভারেই টাইগারদের স্কোর ১০০ ছাড়িয়ে যায়।
দারুণ জমে গিয়েছিল দ্বিতীয় উইকেটে সৌম্য-লিটনের জুটি। দলকে এগিয়ে নিতে যা যা করা দরকার সেটাই করছিলেন এই দুজন। মাত্র ৭ ওভারে এসে যায় ৬৮ রান। যাতে সৌম্য সরকারের অবদান ২২ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ৩২। সম্ভাবনাময় ইনিংসটি শেষ হয় কটরেলের বলে পুল করতে গিয়ে ব্র্যাথওয়েটের হাতে ধরা পড়ে। প্রথমে লাফিয়ে উঠে বলটি এক হাতে থামিয়ে দ্বিতীয় দফায় তালুবন্দি করতে সফল হন ৬ ফুট ৩৩ ইঞ্চি উচ্চতার উইন্ডিজ অধিনায়ক। ১১০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সৌম্যর বিদায়ের পর লিটনও টিকতে পারেননি। শিকারী সেই কটরেল। একই ওভারে বোল্ড হয়ে শেষ হয় ৩৫ বলে ৬ বাউন্ডারি এবং ৪ ওভার বাউন্ডারিতে গড়া লিটনের ৬০ রানের অসাধারণ ইনিংস। এই দুই ব্যাটসম্যান যখন বিদায় নেন, বাংলাদেশ তখন ১২ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৩ রান তুলে ভালো অবস্থানে। থমাসের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন ১ রান করা মুশফিক। অধিনায়ক সাকিবের সঙ্গে হাত খুলে খেলতে শুরু করেন মাহমুদউল্লাহ।
সিলেটে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বড় হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়ায় আজকের দিবা-রাত্রির এই ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য ‘মাস্ট উইন’। সিরিজে ফিরতে বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা উইন্ডিজের বিপক্ষ সর্বশেষ টি-টোয়ন্টি সিরিজ। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, গত আড়াই বছর ধরে মিরপুর শের-ই-বাংলায় কোনো টি-টোয়েন্টি জিততে পারেনি টাইগাররা। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে মিরপুরে সর্বশেষ বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল ২০১৬ সালের ২ মার্চ।
বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, আবু হায়দার, মুস্তাফিজুর রহমান।
