এটাই বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ওপেনিং জুটি

২০১৬-২০১৮, এই কাপল ইয়ারে মোট ১৮টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যাতে ৫টি জয়, একটি ড্র এবং বাকি ১২টি ম্যাচে হেরেছে টাইগাররা। এবার আরেকটি হিসাবে নজর দেয়া যাক, সেটি হলো এই দুইবছরে ১৮ ম্যাচের বিপরীতে কতজন প্লেয়ার টেস্ট ক্যাপ পরেছে। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে চিটাগংয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে লড়াইয়ে নামে স্বাগতিকরা। সেসময় অভিষেক হয় কামরুল ইসলাম রাব্বি, মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাব্বির রহমানের। আর সব শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে অভিষেক হয় নাঈম হাসানের। সব মিলিয়ে ১৮ ম্যাচে মোট ১৫ জনের অভিষেক হয়।

এসব হিসাব-নিকাশের মূল উদ্দেশ্যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দেশের ৯৪তম প্লেয়ার হিসাবে টেস্ট ক্যাপ পরতে যাচ্ছেন তরুণ ওপেনার সাদমান ইসলাম। ইমরুলের অনুপস্থিতিতে দলে ডাকা হয়েছে তাকে। এখন দেখার বিষয় ফার্স্টক্লাসে ৭টি সেঞ্চুরি হাঁকানো সাদমানের ওপেনিংয়ে এসে কেমন ঝলক দেখান।

ইনজুরির কারণে ঢাকা টেস্টে নেই ওপেনিংয়ে দেশসেরা দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের এই ওপেনিং জুটিটি সবচেয়ে পাওয়ারফুল এবং সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী। এমনকী বিশ্বের ওপেনিং জুটির তালিকায় তাদের অবস্থান ১৫তম। দীর্ঘ ফরম্যাটের টেস্টে এই দুই ওপেনার মোট ৫৩টি ইনিংস খেলেছেন। যাতে ৪৪ গড়ে ২৩৩৬ রান তুলেছেন।

তামিমের সঙ্গে জুনায়েদ সিদ্দিকীর বোঝাপড়াও মন্দ নয়। ২০০৮-১০ সালে জাতীয় দলের বাঁহাতি ওপেনারের সঙ্গে বেশ কয়েকটি কার্যকরী ইনিংস খেলেছেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। বিশেষ করে ২০১০ সালে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে ২০০ রানের পার্টনারশীপটি বেশ প্রশংসা পেয়েছে। এই এক জুটি ছাড়াও দেশের বাইরেও বেশ কয়েকটি ভূমিকা জুটি উপহার দেন দুইজন। এছাড়া জাতীয় দলের আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার ওয়ানডে ফরম্যাটে তামিমের সঙ্গে বেশ জুতসই হলেও টেস্টে একেবারে ম্যাড়ম্যাড়ে। ড্যাশিং ওপেনারের সঙ্গে খেলে মাত্র ১০০ উর্ধ্ব একটি ইনিংস উপহার দিয়েছেন তিনি। এছাড়া তমিমের সঙ্গে নেমে কখনো সফলতা পাননি সৌম্য।

টেস্ট ওপেনিংয়ে তামিম-ইমরুল যেমন ধারাবাহিক, ঠিক তেমনই তাদের পার্টনারশীপও চাঙ্গা। যদিও এর চেয়েও বড় জুটি রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে। গেল বছরের নিউজিল্যান্ডে ৩৫৯ রানের দীর্ঘ জুটি গড়ে রীতিমত রেকর্ড করেছিলেন সাকিব-মুশফিক। কিন্তু তা ছিল পঞ্চম নাম্বার জুটিতে। তাই টেস্ট ওপেনিংয়ে ইমরুল-তামিমের ৩১২ কে প্রাধান্য দেয়া যায়।

৫৬ টেস্ট ক্যারিয়ারে তামিমের সঙ্গে কখনো জুনায়েদ-বিজয়।আবার কখনো লিটন-সৌম্যকে দিয়ে এক্সপ্রিমেন্ট চালানো হয়েছে। কিন্তু বরাবরই তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। ঠিকই তামিমের সঙ্গে ইমরুল কায়েসের জুটিটি অম্লান হয়ে আছে এবং থাকবে। আর তাদের ছাড়াই কিনা দুই ম্যাচ টেস্টের দ্বিতীয়টিতে নামবে বাংলাদেশ।