এফডিসির ভেতরে প্রশাসনিক ভবনের আশপাশে একজনকে দেখা গেল অস্বস্তি নিয়ে ঘোরাঘুরি করছেন। একসময় আশপাশে লোকজন না দেখতে পেয়ে তিনি প্রাকৃতিক কর্ম সাড়তে লাগলেন খোলা জায়গাতেই। অথচ পাশেই ছিল পাবলিক টয়লেট! থাকলে কী হবে? সেটি তো তালা দেওয়া!
প্রাকৃতিক কর্ম সাড়া লোকটির কাছে গিয়ে পরিচয় জানতে চাইলে জানা গেল তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, এফডিসিতে এসেছেন স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রের শুটিং করার জন্য। শুটিং করার নিয়মকানুন ও লোকেশন জানতেই তিনি এসেছিলেন এফডিসিতে। কাজ শেষে চলে যাওয়ার মুহূর্তে তিনি প্রক্ষালন কেন্দ্র খুঁজে পান ঠিকই, কিন্তু সেটি ব্যবহার করতে পারেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, অভিযোগ আছে, এফডিসির ভেতরে থাকা সাধারণের জন্য নির্মিত যে টয়লেট রয়েছে, সেগুলোও ভাড়া দেওয়া হয়েছে টিভিগুলোর কাছে। ইদানীং সিনেমার শুটিংয়ের চেয়ে টিভি চ্যানেলের শুটিং বেশি হয় এফডিসিতে। পাবলিক টয়লেটগুলো এখন তাদের জন্যই বরাদ্দ রাখা হয় এবং এ জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়াও নেওয়া হয় টিভি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। এ কারণে সাধারণ মানুষ যাঁরা এফডিসিতে বিভিন্ন কাজের জন্য আসেন, তাঁরা টয়লেটগুলো ব্যবহার করতে পারেন না, কারণ সেগুলো তালাবদ্ধ থাকে। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে এফডিসির যেখানে সেখানে প্রাকৃতিক কর্ম সাড়েন।
অভিযোগ করে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রটি বলেন, ‘ভাই, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চাপ অনুভব করছি। এখানে এসেছিলাম একটি শর্টফিল্মের বিষয়ে কথা বলার জন্য। কথা শেষ করে চাপ কমাতে খবর নিয়ে জানলাম, এখানে কোনো পাবলিক টয়লেট নেই। শুনেছি একটি ছিল, সেটি নাকি ভাড়া দিয়ে দিয়েছে। কোনো উপায় না পেয়ে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছি।’
এফডিসির ভেতরে কড়ইতলার পাশেই এফডিসির পাবলিক টয়লেটটি বানানো হয়েছিল, কিন্তু সেটি তালা দেওয়া রয়েছে। এই তালার চাবি গচ্ছিত আছে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের নিরাপত্তারক্ষীর কাছে। কিন্তু কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে এফডিসির কর্মকর্তা হিমাদ্রি বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা প্রায় তিন বছর আগেই ৮ নম্বর শুটিং ফ্লোরটি ভাড়া দিই। কিন্তু সেখানে কোনো টয়লেট নেই। যেহেতু টিভি চ্যানেলটি প্রচুর শিল্পী নিয়ে প্রতিদিনই অনুষ্ঠান করে, তাই তাদের টয়লেট প্রয়োজন হয়। তাই তাদের কাছে আমরা টয়লেটটি ভাড়া দিয়েছি।’
সাধারণ মানুষ তা হলে কোথায় প্রাকৃতিক কর্ম সাড়বে—জানতে চাইলে হিমাদ্রি বলেন, ‘এখানে যাঁরা শুটিং করেন, তাঁদের জন্য শুটিং ফ্লোরে টয়লেট রয়েছে। শিল্পীদের জন্য মেকআপ রুমে টয়লেট রয়েছে। প্রত্যেক সমিতিতে টয়লেট রয়েছে। তা ছাড়া বাইরের মানুষ তো এখানে আসার নিয়ম নেই। কেউ প্রশাসনিক ভবনে এলে সেখানেও টয়লেট আছে এবং যে কেউ চাইলে তা ব্যবহার করতে পারেন।
সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের তো ক্যামেরা, লাইট, এডিটিং, ডাবিং, শুটিং ফ্লোর এসব ভাড়া দিয়েই চলতে হয়। এখন একজনকে আমি শুটিং ফ্লোর ভাড়া দিলাম, তাদের তো একটা টয়লেটও দিতে হবে। তারপরও আমি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ফয়সালা করব।’
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির নেতা খোরশেদ আলম খসরুর সঙ্গে। তিনি এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা যখন একটি সিনেমার শুটিং করি, তখন একটি সেটে প্রায় দেড়শ মানুষ থাকে। এমকি শুটিংয়ের প্রয়োজনে তিন-চারশ মানুষও কাজ করেন। শুধু কড়ইতলা নয়, এফডিসিজুড়েই প্রাকৃতিক কাজ সারতে দেখা যায়।
যে কারণে গন্ধে অনেক জায়গাতে বসাই যায় না। অথচ এখানে মাত্র একটি পাবলিক টয়লেট আছে, সেটাও ভাড়া দেওয়া হয়েছে একটি টিভি চ্যানেলের কাছে। আমি বিষয়টির প্রতিবাদ জানাই। এই প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করা হয়েছিল সিনেমার উন্নয়নের জন্য। এখন তা একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।’
খোরশেদ আলমের মতো চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য এফডিসিকে সর্বাত্মকভাবে কাজ করতে হবে। এমনকি এফডিসির ভেতরে থাকা সর্বসাধারণের টয়লেটের ব্যাপারেও নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তাঁরা।–এনটিভি অনলাইন
