অলআউট জিম্বাবুয়ে, ৫ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়লেন তাইজুল


ব্রেন্ডন টেইলরের স্লগ সুইপের কথা মাথায় রেখে স্কয়ার লেগ আর মিডউইকেটের মাঝে ফিল্ডার রেখেছিল বাংলাদেশ। কাজে লেগেছে কৌশল। দুর্দান্ত এক ডাইভিং ক্যাচে সেঞ্চুরিয়ান ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

রাউন্ড দ্য উইকেটে বোলিং করা মেহেদী হাসান মিরাজের ফুল লেংথ বল স্লগ সুইপে ছক্কায় উড়াতে চেয়েছিলেন টেইলর। সীমানায় কিছুটা এগিয়ে থাকা তাইজুলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল ক্যাচ। ঝাঁপিয়ে দারুণ দক্ষতায় ক্যাচ মুঠোয় জমান তিনি।

১৯৪ বলে ১০ চারে ১১০ রান করে ফিরেন টেইলর। ২৯০ রানে সপ্তম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এরপরই আসা যাওয়ার মিছিলে নেমে পড়ে জিম্বাবুয়ে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ৩০৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। টানা তৃতীয় বারের মতো ৫ উইকেট শিকার করে রেকর্ড গড়ল তাইজুল।

এর আগে সকালে ত্রিপানোকে মিরাজের ক্যাচ বানান তাইজুল। আগের দিন শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নামা এই বোলার ৪৬ বল খেলে ৮ রান করেন। চারিকে (৫৩) ক্লোজে থাকা মুমিনুলের হাতে ধরা পড়তে বাধ্য করেন মিরাজ।

এরপর দারুণ এক ডেলিভারিতে উইলিয়ামসকে (১১) বোল্ড করেন তাইজুল। সিকান্দার রাজাকেও (০) বোল্ড করেছেন তিনি। একাই নিয়েছেন ৪টি উইকেট।

নিজের প্রথম ১০০ বল থেকে মাত্র ৩০ রান করতে পেরেছিলেন চারি। এরপর ত্রিশ থেকে পঞ্চাশে পৌঁছতে তিনি খেলেন মাত্র ১১টি বল। খালেদকে ছক্কা মারার পরে তাইজুলের এক ওভারেই মারেন তিন চার। ১১১ বলে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। তবে মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগে দিয়ে তিনি সাজঘরে ফিরে যাওয়ায় খানিক চাপে পড়ে গিয়েছে সফরকারিরা।

চারির পঞ্চাশে অবশ্য অবদান ছিলো বাংলাদেশের ফিল্ডাদেরও। অভিষিক্ত খালেদ আহমদের বোলিংয়েই পয়েন্ট অঞ্চলে চারির ক্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন তাইজুল। জীবন পেয়েই নিজের ফিফটি তুলে নেন চারি। তিনি জীবন পেয়েছিলেন আরও একবার। মেহেদি হাসান মিরাজের বলে লেগস্লিপে ক্যাচ ছেড়েছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

তবে এরপর আর তাকে বেশিদূর যেতে দেননি মিরাজ। ঠিক পরের বলেই শর্ট লেগে দাঁড়ানো মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন ১২৮ বলের সংগ্রামী ইনিংসে ৫৩ রান করা চারিকে। আউটটা অবশ্য বেশ অদ্ভূত ছিল। প্রথমে বাংলাদেশি ফিল্ডারদের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার।

রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। রিভিউয়ে দেখা যায়, চারির উরুতে বল লেগে সেটা একটু খানি ছুঁয়ে যায় উপরে উঠান হাতের গ্লাভসে। স্নিকোমিটারে যে সূক্ষ্ম স্পর্শটি ধরা পড়েছে। ফলে সিদ্ধান্ত বদল করতে হয় আম্পায়ারকে।