মর্মাহত ঐশী উগড়ে দিলেন ক্ষোভ

আগামী ৯ ডিসেম্বর মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চীনে যাচ্ছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। সেখানে ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হবে বিশ্বসুন্দরী বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা। সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার মাঝেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এই সুন্দরী।

গত সপ্তাহ থেকেই জ্বরে ভুগছিলেন। পরে চিকিৎসক জানান, ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ঐশী। চিকিৎসকদের পরামর্শে গত শনিবার থেকে তিনি পান্থপথে শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তবে ঐশী জানান, ভয়ের কিছু নেই। এখন তার শারীরিক অবস্থা বেশ ভালো। হাসপাতাল থেকে গতকাল সোমবার নিজের বাসায় ফিরেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে এখন ভালো আছি। চিকিৎসকরা বলেছেন দ্রুতই সেরে উঠবো। কয়েক দিন বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। আপাতত বাসায়ই বিশ্রাম করছি।’

বরিশালের পিরোজপুরের এই তরুণী আরও বলেন, ‘সঠিক সময়ে সেরে উঠতে পারবো এটাই আনন্দের খবর। ৯ ডিসেম্বর দেশ ছাড়তে হবে মূল আসরে অংশ নেয়ার জন্য। অনেক কিছু এখনও গুছানো বাকি। সবার কাছে দোয়া চাই যেন দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারি।

ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ঐশী বলেন, ‘অসুস্থতার চেয়েও বেশি কষ্ট পেয়েছি একটি মিথ্যা গুজব শুনে। কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে আমি নাকি প্রেগন্যান্ট; তাই লুকিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে নোংরা কথা ছড়াচ্ছেন সত্য যাছাই না করে। আমি খুব অবাক হয়েছি, মানুষের অসুস্থতা নিয়ে কেউ মজা করে নাকি! মেয়েদের অসুখ নিয়েও এ দেশে রসালো গল্প ছড়ানো হয়। তারা ভাবে না যাকে নিয়ে মজা করা হচ্ছে তার পরিবার সেজন্য বিব্রত হয়, অপমানিত হয়।

জানি না এই মনগড়া খবরটি কে বা কারা লিখেছেন, কী ফায়দা তাদের হয়েছে। এটা খুবই লজ্জাজনক একটি বিষয়। ডেঙ্গু নিশ্চিত না হয়ে কাউকে জানাতে চাইনি বলেই অসুস্থতার বিষয়টি গোপন ছিল। আমার পরিবার আছে, আত্মীয়রা আছে। সবাই চিন্তা করবেন অসুখের খবর পেলে।’

তিনি বলেন, ‘আসলে এই দেশে একজন মেয়ে মানুষকে খুব সহজেই ছোট করে ফেলা যায়। খুব সহজেই যা কিছু তা ছড়িয়ে দিয়ে ভাইরাল করে ফেলা যায়। যারা ওইসব নোংরা চিন্তাগুলো করেন তারা হয়তো নিজেদের পরিবারের মেয়েদেরও সম্মান দিতে পারেন না। কিছু লোক তো থাকেনই সমাজে যারা সবসময়ই চেষ্টা করেন অন্যকে ছোট করতে। তারা টের পান না, এসব করে নিজেরাই তারা নিজেদের ছোট করেন।’