যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নাফটা (নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট) চুক্তি নবায়ন করতে রাজি হওয়ার জন্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে দেশটির ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক নেতারা। একই সঙ্গে খারাপ চুক্তির চেয়ে কোনও চুক্তি না থাকাই ভালো, ট্রুডোর এমন নীতি পরিত্যাগ করতে বলছেন তারা।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের গতকাল বুধবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইথিজারের সঙ্গে নাফটা চুক্তির বিষয়ে নতুন আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
ট্রুডো বলেছেন, তার সরকার দরকার পড়লে পদত্যাগ করবে। এখন পর্যন্ত কানাডার অবস্থানের প্রতি অভ্যন্তরীণ সমর্থন থাকলেও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কায় তা কমছে। কানাডা তাদের পণ্যের ৭৫ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করে থাকে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পণ্যের ওপর কর আরোপের হুমকি দিচ্ছেন।
ফ্রিল্যান্ড কানাডার অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মঙ্গলবার বলেন, ‘আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া কোনও আলোচনাকারী যদি মনে করে তাকে যেকোনো মূল্যে একটি চুক্তি করতেই হবে, তাহলে ওই চুক্তির জন্য তাকে সর্বোচ্চ মূল্য দিতে হয়।’
তবে কানাডার বিজনেস কাউন্সিলের প্রধান ও সাবেক অর্থমন্ত্রী জন ম্যানলি বলেন, ‘খারাপ চুক্তির চেয়ে কোনও চুক্তি না হওয়া ভালো’ এমন সাহসী বক্তব্যের দুর্বলতা হলো, একটি খারাপ চুক্তি দর্শকের খুব নজরে থাকে।’
ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই নাফটা চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। তার অভিযোগ, চুক্তিটির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে উত্পাদনশীল চাকরি কমে গেছে। বিষয়টিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না হলে তিনি তা বাতিল করে দেবেন বলেও ক্ষমতায় আসার পর থেকে হুমকি দিয়ে আসছেন।
