নিজ ভুলেই- অভিনব পদ্ধতিতে নকল সোনার গহনা বিক্রি করতে এসে কর্ণফুলীতে জনতার হাতে আটক হয়েছে এক নারী। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ বলছে, ধৃত ওই মহিলার নাম রোজী আকতার স্বামী মৃত মুজিবর রহমান। তিনি বাশঁখালী ছনুয়া এলাাকার ডোংরা গ্রামের বাসিন্দা। তবে বর্তমানে কর্ণফুলীর কালামিয়া বাজার বসবাস করে বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, রোববার রাতে উপজেলার ইছানগরের বিএফডিসি মোড়ে জাগির হাজীর মার্কেটের জি.বি.এল জুয়েলার্সে দেড় ভরি ওজনের দুটি হাতের গহনা বিক্রি করতে আসেন রোজী আকতার নামের ওই প্রতারক।
এক সপ্তাহ আগেও ওই নারী দুটি কানের নকল দুল বিক্রি করে ৯ হাজার টাকা নিয়ে যান বলে জানান ব্যবসায়ী সুভাষ দাশ। সুচতুর দোকানদার প্রথমবার বুঝতে না পারলেও দ্বিতীয়বার একই নারীকে দেখে সন্দেহ হওয়ায় সোনার গহনা কিনবেন বলে স্থানীয় লোকজনকে কৌশলে জড়ো করেন।
এরপরেই তাকে আটক করে কর্ণফুলী থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন ব্যবসায়ীরা। এবং ওসি তদন্তের নির্দেশে দ্রুত এএসআই সেলিম ঘটনাস্থল হতে ওই নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
থানায় অভিযোগ স্বীকার করেছেন রোজী আকতার। কর্ণফুলী থানার ওসি তদন্ত মোঃ ইমাম হাসান জানান, আটকর ওই নারীর নামে প্রতারণা মামলা দায়ের করা হবে।
টিভি শোতে কাদঁলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক
ছাত্রলীগ নিয়ে নিজের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে টেলিভিশন শোতে এসে কাঁদলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। ছাত্রলীগকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নিজের প্রয়াত মায়ের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে তা বাস্তবায়নে নিজের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন তিনি।
টিভি শোতে কাদঁলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক
রোববার রাতে ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদির উপস্থাপনায় বেসরকারি টেলিভিশন মাইটিভির ‘তৌহিদ আফ্রিদি শো’তে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন গোলাম রাব্বানী। সেখানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে রাব্বানীকে উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, আপনার ভালবাসার মানুষ কে?
জবাবে রাব্বানী বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে ভালবাসার মানুষ ছিলেন আমার মা। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করার আট দিন আগে মা চিরদিনের মত চলে গেছেন।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার খবর শুনলে সব থেকে মা বেশি খুশি হতেন বলেও জানান রাব্বানী। বলেন, আমার মাও ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। ছাত্রলীগ আমাদের অনেক আবেগের সংগঠন। কারণ, অনেক কষ্টে শ্রম দিয়ে ছাত্রলীগ দাঁড় করিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এবার কমিটি দেয়ার সময়ও তার চোখে কতটা প্রত্যাশা দেখেছি। সাধারণ মানুষও ছাত্রলীগের প্রতি অনেক প্রত্যাশা। যার প্রতি প্রত্যাশা বেশি তার প্রতি অভিযোগ,অনুযোগও বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক।
এ কথা বলতে বলতেই একপর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রাব্বানী। এসময় তাকে হাত দিয়ে চোখের পানি মুছতেও দেখা যায়। এসময় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক আসন থেকে উঠে গিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেন।
ছাত্র রাজনীতি করার জন্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার কথা জানিয়ে রাব্বানী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি আমার বিভাগের ছাত্র ছিলেন এটা চিন্তা করলে গর্বে বুকটা ভরে উঠে।
আমার ক্যারিয়ার, ছাত্রজীবন,যৌবন সব ছাত্রলীগকে ঘিরে। আমার মা ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন এর থেকে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে? আমার বিসিএস হয়েছে, জুডিশিয়ারিতে হয়েছে কিন্তু আমার মা বলছে তুমি ছাত্রলীগ করো, শেখ হাসিনার জন্য কাজ করো এটাই আমার প্রত্যাশা।
আমার নানার স্বপ্ন ছিল, আমরা যেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে চলি। নানা মারা যাওয়ার সময় আম্মুকে বলে গেছেন। আমি সেটা ধারণ করে চলছি। যাতে আমার কোনো কাজে আচরণে যাতে আমার মা, নানার স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ না হয় সেই চেষ্টা করি।
ছাত্রলীগকে নিয়ে স্বপ্নের কথা জানিয়ে রাব্বানী বলেন, একজন কর্মীকে কোনো মুরুব্বি দেখলে মাথায় হাত বুলিয়ে বলবে বাবা বেঁচে থাকো। আমি ছাত্রলীগকে নিয়ে তেমন স্বপ্ন দেখি। যা কিছু সত্য, যা কিছু সুন্দর, পজিটিভ সৃষ্টিশীল, মননশীল তার সঙ্গে থাকবে ছাত্রলীগ।
অপরাধ স্বীকার শ্রীপুরের সেই নকল মেয়রের
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র মো. আনিছুর রহমান সেজে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাওয়া নুরে আলম মোল্লা অপরাধ স্বীকার করে বলেছেন, তিনি ভুল করেছেন।
এ জন্য তিনি আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সোমবার ঢাকা বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান আসামি নুরে আলমের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করে তাকে ফের কারাগারে পাঠান।
অর্থ আত্মসাতের মামলায় ‘বিদেশে আসল মেয়র, নকলজন কারাগারে’ শিরোনামে সোমবার সমকালের শেষ পৃষ্ঠায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হয়।
এতে বলা হয়, দুদকের করা মামলায় শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. আনিছুর রহমান সেজে আত্মসমর্পণ করতে এসে কারাগারে যেতে হয়েছে নুরে আলম মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের পিপি রুহুল ইসলাম খান গতকাল নুরে আলম মোল্লার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আরজি জানান।
পাশাপাশি সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কাটিং আদালতে দাখিল করেন। এদিন অপর একটি ফৌজদারি মামলায় কারাগার থেকে নুরে আলমসহ অন্যান্য আসামিকে ওই আদালতে হাজির করা হয়।
সোমবার আদালত নুরে আলমের কাছে জানতে চান, তিনি কেন এ কাজ করেছেন। জবাবে নুরে আলম জানান, মামলার সর্বশেষ অবস্থা ও তারিখ জানতে মেয়র আনিছুর রহমানের পক্ষে তিনি আদালতে এসেছিলেন।
কিন্তু আইনজীবী তাকে মেয়রের পক্ষে আদালতে দাঁড়াতে বলেন। তিনি আদালতকে আরও জানান, আইনজীবী বলেন মেয়রের নামে একজন দাঁড়িয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করবেন। মামলার জন্য মেয়রকে আদালতে আসতে হবে না। তবে মেয়র এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে নুরে আলম জানান।
শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান ৯ দিনের সরকারি সফরে শনিবার ইন্দোনেশিয়া যান।
তার বিদেশ যাওয়ার পর দিন রোববার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় মেয়রের নাম-ঠিকানা দিয়ে যুবলীগ কর্মী নুরে আলম মোল্লা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।
