বিয়ের আশ্বাসে নেপালি ছাত্রীর শ্লীলতাহানি; চিকিৎসক কারাগারে

বিয়ের আশ্বাসে সিরাজগঞ্জে বেসরকারি নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে ডা. তুহিন নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে আটকের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নেপাল থেকে পড়তে আসা একই কলেজের ৪র্থ বর্ষের ওই ছাত্রীর অভিযোগের কারণে তাকে আটক করা হয় বলে সদর থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ জানান।

মেডিকেল কলেজ সূত্রে, লেখাপড়ার সুবাদে ডা. তুহিনের সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ডা. তুহিন ছাত্রীকে বিয়ের আশ্বাস দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।

সম্প্রতি ওই ছাত্রী বিয়ের জন্য চাপ দিলে ডা. তুহিন নানা টালবাহানা শুরু করেন। গত শুক্রবার দুপুরে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কলেজে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ওই ছাত্রী ডা. তুহিনের বাসায় গিয়ে আবারও বিয়ের জন্য চাপ দেন। এ সময় ডা. তুহিন ও তার স্ত্রী ছাত্রীকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ ঘটনার পর রোববার বিকালে আবারও ওই ছাত্রী ডা. তুহিনের বাড়ি গেলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

এ সময় ওই ছাত্রী পুলিশ ও কলেজ অধ্যক্ষকে বিষয়টি অবগত করেন। এর পরই পুলিশ ডা. তুহিনকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নর্থ বেঙ্গল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

সদর থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ আরো বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার রোববার বিকেলে ডা. তুহিনকে শহরের ধানবান্ধি মহল্লার তার ভাড়া বাসা থেকে আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়। এরপর প্রাথমিক তদন্ত শেষে শিক্ষার্থীর অভিযোগ মামলা হিসাবে গ্রহন করে সোমবার বিকেলে প্রভাষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. এসএম আকরাম হোসেন জানান, শিক্ষার্থীর অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।