ক্রীড়াঙ্গনে নারীর সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে। তার আগে থেকে বাংলার নারীরা ক্রীড়াঙ্গনে দাপিয়ে গেছেন। চার দেয়ালে বন্ধী থাকেননি। নানা বাঁধা পেরিয়ে খেলার মাঠে মাথা তুলেছেন এদেশের নারী ক্রীড়াবিদরা। সামাজিক বাঁধা কিংবা পারিবারিক বাঁধা ডিঙ্গিয়ে খেলার মাঠে আসতে পথে পথে কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু এদেশের নারীরা কখনো থেমে থাকেননি। দশের কথা ভুলে গিয়ে দেশের কথা মনে করে সামনে এগিয়ে গেছেন। দেশের সর্বস্তরে নারীরা আছেন, সংসার জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। মোটরসাইকেলে চড়েও নারী শহরের এক প্রান্ত হতে আরেক প্রান্তে যাচ্ছেন। দেশের খেলাধুলায় এখন সবচেয়ে বেশি নারীর অংশগ্রহণ। প্রতি বছর নারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে। কিছু কিছু দল চাকরি দিচ্ছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, বিজেএমসি সহ অনেক প্রতিষ্ঠান খেলাধুলায় অংশগ্রহন আরো বাড়িয়েছে। তাদের নারী ক্রীড়াবিদদের সংখ্যাও বাড়িয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ের খেলাধুলায় শহরের বাইরের নারীরা আসছে অনেক উত্সাহ নিয়ে। কিন্তু ঢাকায় এসে জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো তেমন কোনো সুবিধা দিতে পারছে না। এমনকি নিজ নিজ জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো নামকাওয়াস্তে পেটে ভাতে ক্রীড়াবিদদের খেলাধুলায় নামিয়ে দিচ্ছে। সুযোগ সুবিধা নেই বললেই চলে। দেশের ব্যাডমিন্টন তারকা কামরুন নাহার ডানা, মরিয়ম তারেক, টেবিল টেনিস তারকা জোবেরা রহমান লিনুরা অর্থের জন্য খেলাধুলায় আসেনি। খেলাধুলা করে নাম করেছেন। তারকা খ্যাতি পেয়েছেন। রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছেন। কিন্তু এখন কেউ শুধু খ্যাতির জন্য খেলতে চায় না। সাবেক ব্যাডমিন্টন তারকা মরিয়াম তারেক মনে করেন ক্রীড়াঙ্গনে আগের চেয়ে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। নারী ক্রীড়াবিদদের খেলাধুলায় ধরে রাখতে এক দিকে যেমন সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে তেমনি তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। এখনকার পরিবার সর্ব প্রথম তাদের কন্যা সন্তানদের নিরাপত্তার কথাটাই আগে ভাবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন খেলেছি তখন অর্থ কিংবা নিরাপত্তা কোনোটই বড় বিষয় ছিল না। এখন অর্থনৈতিক বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ।’

সাত বারের দ্রুততম মানবী সাবেক অ্যাথলেট লাভলী বেগম বললেন, ‘আমরা যখন ক্যারিয়ার শুরু করি টাকা পয়সা পাইনি। নিজের তাগিদে খেলেছি। কিন্তু এখন নিজের তাগিদ থাকলেও নারী ক্রীড়াবিদরা ভাবে খেলাধুলায় এসে লাভ কি। যে সব নারী তাদের কর্ম সংস্থানের নিশ্চয়তা পাবে তারা খেলাধুলায় আসতে পিছপা হবে না।