এই সেই ওভাল, যেখানে জীবনের শেষ টেস্টে আর চার রান করলে ডন ব্র্যাডম্যানের গড় একশো হয়ে যেত। এই সেই ওভাল, যেখানে জীবনের শেষ টেস্ট খেলতে নেমে সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন অ্যালিস্টেয়ার কুক। কিন্তু জাসপ্রীত বুমরার একটা বলে থেমে গেল তার ইনিংস। ৭১ রান করে ফিরলেন সাজ ঘরে।
ওভালে নাটকীয় ঘটনা কিছু কম নেই। একটা কাহিনি মনে পড়ে যাচ্ছে। ডব্লিউ জি গ্রেস যখন ওভালে ব্যাট করতেন, তখন টিকিটের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হত। আবার গ্রেস যখন ফিল্ডিং করতেন, সেই দাম কমে যেত।
নানা কীর্তির এই মাঠে তাই মনে হচ্ছিল, কুকও হয়তো একটা কিছু করে দেখাবেন। কিন্তু শেষ টেস্টের প্রথম দিনটা কুকের হয়েও হল না। শুক্রবার চা বিরতির পরে ভারতীয় পেসাররা আগুনে বল করায়।
চা বিরতিতে ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল এক উইকেটে ১২৩। এই সিরিজে সব চেয়ে ভাল স্কোর। তখন মনে হচ্ছিল, বড় রান তুলে দেবে জো রুটের দল। কিন্তু চা বিরতির পরে বুমরা, ইশান্ত শর্মা এবং রবীন্দ্র জাডেজা মিলে একটা সময় ৪৮ রানের মধ্যে ইংল্যান্ডের ছয় উইকেট তুলে নিলেন। ১৩৩-১ থেকে স্কোর দাঁড়ায় ১৮১-৭। দিনের শেষে ইংল্যান্ড সাত উইকেটে ১৯৮। চা বিরতির পরে উঠল ৭৫ রান। ছয় উইকেটের মধ্যে ইশান্ত নিলেন তিনটি, বুমরা দু’টি এবং জাডেজা একটি।
কী এমন হল যাতে ভারতীয় বোলাররা এমন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলেন? মূলত সামির কারণে বদলে গেল ভারত। ন’ওভারের একটা স্পেল করলেন, যা অনেক দিন মনে থাকবে। উইকেট না পেলেও ওই সময় মইন আলিকে পরাস্ত করেছিলেন সামি। বাকিরাও ঠিক জায়গায় বল ফেলতে লাগলেন।
ফলটা পাওয়া যেতে লাগল চা বিরতির পর থেকে। বুমরা-ইশান্তের গতি আর সুইংয়ের হদিশ পাচ্ছিলেন না ব্যাটসম্যানরা। বুমরার ছোট আউটসুইং বাঁ হাতি কুকের ক্ষেত্রে সামান্য ঢুকে আসে। ইংল্যান্ড ওপেনারের ব্যাটের কানায় লেগে বল স্টাম্প ছিটকে দেয়। ওই ওভারের পঞ্চম বল ইনসুইং। যা এবার রুটের পা পেয়ে যায় উইকেটের সামনে। এর পর দুরন্ত ইশান্ত শর্মা অফস্টাম্প লাইনে আক্রমণ করে তিনটি উইকেট তুলে নেন। পেসারদের দাপটের মাঝে ঠিক লাইনে বল করে বেন স্টোকসকে ফিরিয়ে দেন রবীন্দ্র জাডেজা। বাঁহাতি স্পিনার শুরুতে কিটন জেনিংসকে ফেরালেও মিডল-লেগ লাইনে বল করছিলেন। সেই লাইন অফ-মিডলে নিয়ে আসার পরেই ফের সাফল্য। চা বিরতির পরে জাদেজার বলে এলবিডব্লিউ স্টোকস।
তবে আর অশ্বিনের জায়গায় দলে আসা জাদেজার প্রধান কাজটা ছিল রান আটকানো। সেটা এই বাঁহাতি স্পিনার ঠিকঠাক করেছেন। ইংল্যান্ড প্রথম দিকে উইকেট না হারালেও রান সে রকম তুলতে পারেনি। ফলে একবার উইকেট পড়তে শুরু করার পরে চাপটা বেড়ে যায় ইংল্যান্ডের ওপর।
