শোয়েব-সানিয়া ইস্যুতে তখন কী হয়েছিলো সাব্বিরের?

অভিযোগটি প্রায় ছয় বছরের পুরনো। বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগ খেলতে এসেছিলেন শোয়েব মালিক। স্বামীর খেলা দেখতে এসেছিলেন সানিয়া মির্জা। অভিযোগ, ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে থাকা সানিয়াকে ইভ টিজিং করেছিলেন সাব্বির। নানারকম অশালীন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাকে উত্ত্যক্ত করেছিলেন। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন শোয়েব।
সানিয়া মির্জাকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে তখন সাব্বির রহমানকে পাঁচবছর ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছিল। সময় সংবাদকে এমনটাই জানিয়েছেন তখনকার সিসিডিএম চেয়ারম্যান জেএস হাসান তামিম ও তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য আবু ইউসুফ মিকু। ওই ঘটনায় ২০১১-১২ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে সাব্বিরকে শোকজ করা হয়। তিনবার চিঠি দেওয়ার পর শুনানিতে অংশ নেন সাব্বির। এমনটাই বলেছেন তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য রিপন।

ছয় বছর আগে এশিয়া মহাদেশের টেনিস সেনসেশন সানিয়া মির্জার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছিলেন ক্রিকেটার সাব্বির রহমান। এমন খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আসার পর সাব্বির বিতর্ক আলোচনায় আসে। কিন্তু সেই সময় আনুষ্ঠানিকভাবে সাব্বিরের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগের কথা স্বীকার করেনি কেউই। তবে, এবার সময় সংবাদকে তখনকার সিসিডিএম চেয়ারম্যান ব্যাপারটি পরিষ্কার করলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সানিয়া মির্জাকে নিয়ে সাব্বিরের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ পাই যে, সানিয়া মির্জার সঙ্গে সাব্বির অশোভন আচরণ করেছে। ওই চিঠিতে বলেছিলাম, ৫ বছরের জন্য তাকে (সাব্বির) নিষিদ্ধ করা হবে। যেহেতু শোয়েব মালিক মোহামেডান ক্লাবে খেলেছিল। আর মোহামেডান ক্লাব দায়িত্ব নিয়েই চিঠিটা দিয়েছিল। সেই সময়ে আমরা তড়িৎ অ্যাকশনে গিয়েছিলাম।’

এই ঘটনার পরপরই নিয়ম অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সানিয়া মির্জার স্বামী পাকিস্তানের ক্রিকেটার শোয়েব মালিক তার ক্লাব মোহামেডানের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ করে সিসিডিএমে।

তাৎক্ষণিক চার সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করে সিসিডিএম। দুই দফায় চিঠি দিয়েও সাব্বিরের সাড়া মেলেনি। তৃতীয় চিঠির পর শুনানিতে অংশ নেন সাব্বির। কিন্তু তার আচরণে ক্ষুব্ধ হয় তদন্ত কমিটি। সাব্বিরকে দোষী সাব্যস্ত করে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে ৫ বছরের নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করে তখনকার তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির সদস্য আবু ইউসুফ মিকু বলেন, ‘আমরা যখন তাকে নিষিদ্ধ করলাম, পরবর্তী মৌসুমে তিনি (সাব্বির) কিন্তু খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। আর ওই মৌসুমে আবার শোয়েব মালিক হয়-তো ভিক্টোরিয়া ক্লাবের হয়ে খেলতে এসেছিলেন। তারপর ওনি (সাব্বির রহমান) শোয়েব মালিকের সঙ্গে আপোষ করে বোর্ডের কাছে আবার দরখাস্ত করেছিলেন। বোর্ড তখন খেলার জন্য অনুমতি দিয়েছিলো।’

তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য হুমায়ুন কবির রিপন বলেন, ‘ওই শুনানিটা ছিল আধা-ঘণ্টার মতো। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো, ওরা যে অভিযোগটা করেছেন, সেটা কতটুকু সত্য? তুমি কী বল। সেই সময়ে সাব্বির রহমান তার নিরাপদ জোনে উত্তর দিয়েছিলেন।’

এ ব্যাপারে জানতে সাব্বিরের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন ধরেননি সাব্বির রহমান।