জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী। ধারাবাহিকভাবে অনেক শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে তার করা মানসম্মত গানগুলো কালজয়ী হয়ে এখনও মানুষের মুখে মুখে। তবে এতটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েও থেমে নেই সামিনা। দেশ-বিদেশে বাংলা গানকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। নতুন গানেরও সরব তিনি।
কদিন আগেই প্রকাশ করেছেন তার বাবা কিংবদন্তিু সংগীতজ্ঞ মাহমুদুন্নবীর গান নিয়ে একটি অ্যালবাম। এর বাইরে প্লেব্যাক নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন সামিনা। তবে আজ গুণী এ শিল্পীর জন্মদিন। জন্মদিনটি পরিবারের সঙ্গেই কাটাচ্ছেন সামিনা। সব মিলিয়ে আজকের জন্মদিনটিতে উপলব্ধি কি? সামিনা বলেন, আসলে দিন দিন উপলব্ধি করছি মানুষ আমাকে কত ভালোবাসে। আর জন্মদিন এলে সেটা আরও বেশি অনুভব করি। ফেসবুক, ফোনসহ সরাসরি শুভেচ্ছা জানাতে আসেন আমার শুভাকাঙ্খিরা। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। রাত থেকেই সবাই শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আর আমার বোন ফাহিমদা ও ভাই পঞ্চমতো ছিলোই। ফাহমিদার বাসায় দাওয়াতও ছিলো রাতেই। সব মিলিয়ে খুব ভালো লেগেছে। আজকের বিশেষ দিনটা পরিবারের সবার সঙ্গেই কাটাচ্ছি। তবে আজ রাতেই আবার কানডা যেতে হবে। কানাডা কি শো করতে যাচ্ছেন? সামিনা বলেন, হ্যা। কানাডায় শো রয়েছে প্রবাসীদের আয়োজনে। এই সফর শেষ করে দেশে ফিরবো। আসলে দেশের বাইরে প্রবাসীদের সামনে গান করতে আমি খুব গর্ববোধ করি। কারণ তারা এত কষ্ট করে সেখানে কাজ করছেন। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। প্রিয়জনদের ছেড়ে থাকছেন অনেকেই। তাদের সামনে যখন গাই তখন তাদের চোখে মুখে অন্যরকম একটি ভালোবাসা দেখতে পাই দেশের জন্য, বাংলা গানের জন্য। তাই আমি নিজেও খুব ভালো অনুভব করি। দোয়া করবেন যেন এবারের সফরটা শেষে ভালোভাবে দেশে ফিরতে পারি। বাবার গান নিয়ে তো ঈদে অ্যালবাম করেছেন। সে সম্পর্কে কিছু বলুন। সামিনা বলেন, বাবার নির্বাচিত ১০টি গান নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে নতুন অ্যালবাম ‘আমার গানের প্রান্তে’। অ্যালবামে আমি ও ফাহমিদা পাঁচটি করে গানে কণ্ঠ দিয়েছি। ঈদ উপলক্ষে অ্যালবামটি প্রকাশ করেছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। আসলে অ্যালবামটি করার ইচ্ছে অনেক দিন থেকেই ছিলো। কারণ বাবাকে খুব একটা কাছে পাইনি আমি। যতটুকু পেয়েছি তার কাছ থেকে অনেক শিখেছি। তার গান নিয়ে অ্যালবাম করতে পেরে খুব গর্ব অনুভব হচ্ছে। আমার বিশ্বাস গানগুলো তরুণ প্রজন্মও পছন্দ করবে। এদিকে সামিনার বাবা মাহমুদুন্নবী প্রয়াত হয়েছেন প্রায় ২৭ বছর হয়ে গেছে। এখনো তার বাবার গাওয়া অনেক গান মানুষের মুখে মুখে। বাবার নাম-বাবার সৃষ্টি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে সংগীত অনুরাগীদের জন্য একটি সংগীতশিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন কন্যা সামিনা চৌধুরী। মাহমুদুন্নবী সংগীতনিকেতন নামের এই প্রতিষ্ঠানে চারজন শিক্ষার্থী নিয়মিত গানের তালিম নিচ্ছেন। আপাতত নিজের বাসায় তালিম দেওয়ার কাজটি করা হচ্ছে বলে জানান সামিনা চৌধুরী। তিনি বলেন, এখানে সব বয়সীরা গান শিখতে পারবেন। যোগ্যতা একটাই, যাদের গলায় সুর আছে। বর্তমানে এখনে চারজন শিক্ষার্থী গান শিখছে। এদিকে চলতি সময়ে গান সম্পর্কে সামিনা বলেন, এখনতো সবাই শিল্পী বনে যাচ্ছেন। যাদের গলায় সুর নেই, তাল নেই তারাও শিল্পী হবার জন্য উদগ্রীব। তাছাড়া এখন বেশিরভাগই গান করছে তারকাখ্যাতি পাবার জন্য। তারকা হবার জন্য গান করলে সেটা গান হয় না আসলে। প্রকৃত শিল্পী হয়ে ওঠাও হয় না। গানকে ভালোবাসতে হবে। শেখার মানসিকতা থাকতে হবে। চেষ্টা ও পরিশ্রম থাকতে হবে। তবেই প্রকৃত শিল্পী হওয়া যাবে।
