জীবন্ত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। অ্যালবাম ও চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি নিয়মিত স্টেজ শো’তে গান পরিবেশন করছেন তিনি। তার গান ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
অনেকদিন পর সম্প্রতি দুটি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিলেন-
দুই মাস আগে ফরিদ আহমেদের সুর ও সংগীতে নতুন একটি সিনেমার গান গেয়েছি। এছাড়া কয়েকদিন আগে ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’ নামে একটি ছবিতে গান গেয়েছি। এখানে আমার সঙ্গে গেয়েছেন সুবীর নন্দী। দেড় বছর পর সুবীর নন্দী আর আমি একসঙ্গে গান গাইলাম। এটা একটা কীর্তন গান। খুব সুন্দর একটা গান হয়েছে। সুবীর নন্দী সব সময় অসম্ভব ভালো গায়। এই গানটাও অনেক ভালো গেয়েছে। আজকাল এই ধরনের গান হয় না। এজন্য আমার কাছে ভালো লেগেছে। বলতে গেলে এখন কীর্তন গান হয় না। দীর্ঘদিন পর কীর্তন গেয়ে ভালো লেগেছে।
আপনাকে আগের মতো নিয়মিত চলচ্চিত্রের গানে পাওয়া যায় না। এর কারণ কী?
ফিল্মের গান এখন বেশি গাইছি না। কারণ ফিল্মের গান যেগুলো হচ্ছে সেগুলো আমার স্টাইলের গান না। সেজন্য ফিল্মের গান আমার কম গাওয়া হচ্ছে। যেগুলো আমার মতো গান সেগুলো গাই।
প্রয়াত আলতাফ মাহমুদের ১০টি গান নিয়ে একটি অ্যালবাম করার কথা ছিল। সেটার কাজের খবর কি?
আলতাফ মাহমুদের হাত ধরেই আমি ফিল্মে গান গেয়েছি। তার ১০টি গান দিয়ে নতুন করে একটি অ্যালবামের কাজ শেষ করেছি। গানগুলো নতুনভাবে সংগীতায়োজন করেছে কলকাতার রকেট মন্ডল ও বাংলাদেশের জাহাঙ্গীর। শিগগিরই অ্যালবামটি ইমপ্রেস অডিও থেকে প্রকাশ করার ইচ্ছে আছে। আশা করি গানগুলো সবার ভালো লাগবে।
বলতে গেলে আগে প্রতিদিনেই আপনার রেকর্ডিং থাকত। এখন তেমন কাজ করেন না। গান ছাড়া সময় কাটে কীভাবে?
সময় কোথায় আমার। এখনও দেশ এবং দেশের বাইরে নিয়মিত অনুষ্ঠানে গান করছি।
বর্তমানে যারা গান গাইছেন তাদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ণ?
বলার কিছুই নাই। বর্তমানে এত বেশি শিল্পী যে, কার সম্পর্কে কি বলব। সব মেয়েদের কণ্ঠ আমার কাছে একই রকম মনে হয়। সুতরাং আমার মনে হয় সবাই ভালো গাইছে। কারণ মানুষতো তাদের গান পছন্দ করছে, না হলে এত শিল্পী গাইতে পারত না। সবাই তো শিল্পী এখন। এত শিল্পী যখন তাদের নিশ্চয়ই অ্যালবাম, সিডি বিক্রি হয়। হয়তো তাদের গানও অনেক পপুলার হয়। তা-না হলে সবাই গাইছে কেন? তাদের মধ্যে কিছু শিল্পী খুবই ভালো গান গায়। মূল্যায়ণ করার মতো তেমন কিছু নাই। আমার মনে হয় সবাই যদি ধৈর্য্য ধরে একটু ভালো করে ক্ল্যাসিকেলটা কিছুটা শিখে আসে। পুরোটা ক্ল্যাসিকেল শেখার দরকার নাই, অন্তত বেইজটা যদি একটু ক্ল্যাসিকেল থাকে তাহলে আরও ভালো হতো। আর রেওয়াজ করতে হবে। অনুষ্ঠান একটু কমিয়ে রেওয়াজটা নিয়মিত করা দরকার।
