বই লাগবে? বই? হরেক রকমের বই। টাকা দিতে হবে না! শুধু পড়া শেষে বইটা দিয়ে দেবেন আমাদের। নাহ, নাহ ভয় পাবেন না! নির্দিষ্ট কোন ধরাবাধা সময় নেই। আপনার যখন পড়া শেষ হবে, তখন দিলেই চলবে।’ এভাবেই বই ফেরি করে চলেছে একদল শিক্ষার্থী। তবে রাস্তায়-রাস্তায় না। তারা বই ফেরি করে ফেসবুকে! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভাবে প্রচারণা চালিয়ে এসময়ের শিক্ষার্থীদের বই পড়ার আহ্বান জানায় তারা। এভাবে আগ্রহী পাঠকদের পিপাসা মেটানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন একদল ফেরিওয়ালা। এমন কাজ করে যাচ্ছেন যারা, তারাও সবাই শিক্ষার্থী। এই সকল শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বই ফেরি করে বলে তারা নিজেদের এই সংগঠনের নাম দিয়েছে ‘বইয়ের ফেরিওয়ালা’।
পুরোনো বই ধুলোবালিতে জমিয়ে না রেখে বইয়ের ফেরিওয়ালাদের দিলে তারা এই বই দিয়ে অন্যদের বই পড়ার সুযোগ করে দেয়। এই সংগঠনের সদস্য হতে হলে দিতে হয় না কোন ফিও। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থীর হাত ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে বইয়ের ফেরিওয়ালা সংগঠনটি। যাদের হাত ধরে চলছে এই সংগঠন তারা হলেন- কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সাইদুল ইসলাম, রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের মাহমুদুল হাসান, বাংলা বিভাগের মাহবুবা চৌধুরী, লোক প্রশাসন বিভাগের আবদুল্লাহিল মারুফ এবং একই বিভাগের আনিকা তাসনিম সুপ্তি। মাত্র ৪০টি বই নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এই বইয়ের ফেরিওয়ালারা।
গত চার মাস যাবত্ পাঠকের পছন্দের বইটি সুবিধাজনক উপায়ে পৌঁছিয়ে দেবার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বইয়ের ফেরিওয়ালা সংগঠনটি। ধরাবাঁধা নিয়ম-নীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ জামানত বিহীন বই ফেরি করে যাচ্ছে সংগঠনটি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বই নেয়ার সময় পাঠকই নিজের সুবিধামতো বই ফেরতের তারিখ ঠিক করে দিবেন। এক্ষেত্রে বিলম্ব ফি কিংবা জরিমানার কোনো বালাই নেই। ধরাবাঁধা নিয়ম না থাকায় বেশ স্বাচ্ছন্দ্যভাবেই পাঠকরা পছন্দের বই পড়ার সুযোগ পান।
কবিতা থেকে শুরু করে ছোটগল্প, উপন্যাস, হাস্যরসাত্মক, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, ভ্রমণকাহিনী, গোয়েন্দা, জীবনী, রোমান্টিক কিংবা ট্রাজেডিসহ প্রায় সকল ধরনের বই সরবরাহ করে থাকে বইয়ের ফেরিওয়ালা। বর্তমানে ১১২টি বই নিয়ে এগিয়ে চলা সংগঠনটির রয়েছে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা। বই সংকট ও বই বিতরণের সময়ের ভিন্নতাই যেন তাদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা। অনেক সময় একই বইয়ের জন্য একাধিক পাঠককে অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়াও সংগঠনের বই বিতরণকারী এবং পাঠকদের ভিন্ন ভিন্ন ক্লাস সূচির কারণে বই পৌঁছানো হয়ে উঠে কিছুটা কষ্টসাধ্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম ব্যাচের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান জানান, ‘এটি নিঃসন্দেহে একটি মহত্ উদ্যোগ। আগে আমি নিজ বিভাগের বাইরের বই পড়তে খুব বেশি আগ্রহী ছিলাম না। সময়মতো বই ফেরত দেবার চাপের কারণে তেমনভাবে বই পড়া হতো না। তবে বইয়ের ফেরিওয়ালার চমত্কার ব্যবস্থার কারণে এখন অবসর সময়ে অল্প অল্প করে বই পড়তে পারি এবং পড়া শেষে নিজের পছন্দ মতো সময়ে বই ফেরত দিতে পারি।’
