ছয় বছর পর

শুভ সকাল, বলতেই পারে টাইগার ক্রিকেটের ভক্তরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশে আন্দোলনের ডামাডোল। চারদিকেই অস্থিরতা। সেখানে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় সত্যি স্বস্তির সংবাদ। অন্যদিকে এ ফরমেটে ঘন কালো মেঘ জমেছিল। আফগানিস্তানও যেখানে র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উপরে।

বৃষ্টির দিনে ডিএল পদ্ধতিতে ১৯ রানের জয়ে- যেন সেই আঁধার কেটেছে অনেকটাই। ‘টি-টোয়েন্টিতে এখন যেকোনো দলকেই হারাতে পারে বাংলাদেশ।’- গতকাল ফ্লোরিডায় সিরিজ জয়ের পর বীরদর্পেই এই ঘোষণা দিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজে শুরুটা হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেন্ট কিটসে হার দিয়ে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে এসে যেন বদলে যায় তামিম ইকবালরা। দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের পথ তৈরি করে। শেষ নিজেদের ও বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয় দ্বি-পাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নেয়।

এর আগের জয়টি এসেছিল ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এ সফরে বাজেভাবে টেস্টে হার দিয়ে শুরু হয়েছিল। তবে, মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে ৯ বছর পর বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতে ঘুরে দাঁড়ায় দল। সেই সাফল্য অব্যাহত রাখে গতকাল লডারহিল স্টেডিয়ামে। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তোলেন দুই ওপেনার। তামিম ১৩ বলে ২১ করে আউট হন। তরুণ লিটন কুমার দাস ঝড় অব্যাহত রেখে করেন ৩২ বলে ৬১ রান। এতে ম্যাচ সেরাও তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৮৪ রান। জবাব দিতে নেমে মোস্তাফিজের দারুণ বোলিংয়ে খেই হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৭.১ ওভারে তোলে ১৩৫ রান ৭ উইকেট হারিয়ে। তবে, তখনই বৃষ্টি বাধা হলেও জয়ের আনন্দ ম্লান হয়নি সিরিজ সেরা সাকিব বাহিনীর।

১৮৫ রানের লক্ষ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য কঠিন করে তোলে বাংলাদেশের বোলাররা। যে ঝড় তাদের তোলার কথা ছিল সেটি তুলতেই পারেনি। ফর্মের বাইরে থাকা এভিন লুইসের বদলে দলে চাডউইক ওয়ালটন। কিন্তু তিনিও ভাগ্য বদলাতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এদিনও দারুণ শুরু এনে দেন মোস্তাফিজ। আন্দ্রে ফ্লেচারকে ফাঁদে ফেলে আউট করেন তিনি। পঞ্চম ওভারে তিন বল করে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন নাজমুল অপু আর ফিরতেই পারেনি মাঠে। বদলি কাজ চালাতে আসা সৌম্য আউট করেন ওয়ালটনকে। পরের ওভারে সাকিবের বলে বোল্ড মারলন স্যামুয়েলসও। তখন ৬ ওভারে ৩ উইকেটে ৩২ রান। এরপর দিনেশ রামদিন ও রভম্যান পাওয়েল দলের হাল ধরেন। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি।

মোস্তাফিজ ও রুবেল হোসেন সাজঘরের পথ দেখান দু’জনকে। ১৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান। ম্যাচ তখন টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু আন্দ্রে রাসেলের খুনে ব্যাটিংয়ে বদলে যেতে থাকে সব কিছু। প্রথম ২৪ রান করেন ৪ ছক্কায়! শেষ ৬ ছক্কায় ২১ বলে ৪৭ রান করা রাসেলকে থামান মোস্তাফিজ। তখনই ফ্লোরিডার আকাশ ভেঙে বৃষ্টির হানা। তবে, শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি আইনে টাইগারদের জয়ের হাসিতে কেটে গেছে সব মেঘ।

গতকাল টসে জিতে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দারুণ। ম্যাচের প্রথম বলেই স্যামুয়েল বদ্রিকে বাউন্ডারি মেরে শুরু করেন লিটন। পরের ওভারে বোলিংয়ে অ্যাশলি নার্স। আগের দুই ম্যাচে শুরুতে দুটি করে উইকেট নেয়া স্পিনারকে এবার লিটন মারেন টানা দুটি ছক্কা। অন্যদিকে তামিমও চালাতে থাকেন ব্যাট। এ ঝড়েই ৩.৪ ওভারে দল স্পর্শ করে ৫০ রান। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দ্রুততম দলীয় ফিফটি। তবে, ছন্দপতন হয় কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে স্কুপ করতে গিয়ে তামিম ক্যাচ দিলে এখানেই ভাঙে ২৮ বলে ৬১ রানের জুটি। এমন ভিতের উপর দাঁড়িয়েও সৌম্য সরকার ফের ব্যর্থ। বিদায় নেন ৫ রানের অবদান রেখে। এরপর লিটন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি স্পর্শ করেন ২৪ বলে। ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই মোহাম্মদ আশরাফুলের ২০ বলে ফিফটির পর টি-টোয়েন্টিতে এটি বাংলাদেশের দ্রুততম ফিফটি।

তবে, রানের গতি ফেরানোর চেষ্টায় উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ১৪ বলে ১২ রান করে মুশফিকুর রহীম আউট হন। তখন দলের সংগ্রহ ৯ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৯৭ রান। পরের ওভারে লিটনও থামেন। তবে, তার আগে ৩২ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর সাকিব-মাহমুদউল্লাহ দলের হাল ধরলেও কঠিন ছিল তাদের লড়াই। সাকিব আগের দিনের মতো ২২ বলে ২৪ করে আউট হন। প্রথম ১০ ওভারে রান ছিল ৯৭ কিন্তু পরের ৫ ওভারে আসে ৪০ রান। ১৬.৩ ওভারের সময় বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে আধ ঘণ্টা। শেষের ব্যাটসম্যানদের কাজটা হয়ে ওঠে আরো কঠিন। তবে, মাহমুদউল্লাহর দারুণ ব্যাটিংয়ে রানের গতি বারে। ২০ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তবে, ঝড় ওঠাতে পারেননি আরিফুল হক। তিনি ১৬ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন।