নারায়ণগঞ্জ, ০১ আগস্ট- নারায়ণগঞ্জ সদরের গোগনগর আলামিননগর এলাকায় ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে উদ্ধার করা হয়েছে মডেল মাহমুদা আক্তারের (২৮) লাশ। গত সোমবার রাতে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মাহমুদা শহরের দেওভোগ নাগবাড়ী এলাকার আক্কাস আলীর মেয়ে। তিনি জেলা শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থিত তৈরি পোশাক বিক্রির চেইন শপ ‘টপটেন’-এর বিক্রয় কর্মকর্তা ছিলেন। তবে বছরখানেক আগে চাকরিটা ছেড়ে দেন। পরে বিভিন্ন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। মডেলিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
মাহমুদার মা সুফিয়া বেগম বলেন, ‘২০১৩ সালে হাফিজুর রহমানের সঙ্গে মাহমুদার বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র মেয়ে রিয়ানা রহমান জারা (৪)। ২০১৪ সালে হাফিজের সঙ্গে মাহমুদার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। দুই মাস আগে বাপ্পীর সঙ্গে নিজের বিয়ের খবর জানায় মাহমুদা। তখন থেকে তারা গোগনগরে ভাড়া বাসায় থাকছিল। আর রিয়ানা আমাদের কাছে থেকে যায়। মাহমুদা জানাত, সে ঢাকায় কাজ করে। কিন্তু কী কাজ করে সেটা জানায়নি।’
সুফিয়া বেগম আরো জানান, গত বুধবার মোবাইল ফোনে মেয়ের সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। সোমবার গভীর রাতে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান। তাঁর অভিযোগ, দ্বিতীয় স্বামীই মাহমুদাকে হত্যা করেছে। তিনি মেয়ের হত্যার বিচার চান।
সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, গত ৩ জুন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কয়েক দিন ধরে ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। সোমবার রাতে সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হলে ভাড়াটিয়ারা তাদের খবর দেয়। পরে ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভেঙে মেঝে থেকে মাহমুদার লাশ উদ্ধার করা হয়।
