কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের সঙ্গে তালেবান কর্মকর্তাদের মুখোমুখি বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। বৈঠকে দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান আব্বাস স্তানিকজাই ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ সহকারি পরিচালক অ্যালিস ওয়েলস উপস্থিত ছিলেন।
মুখোমুখি এ সাক্ষাতে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং আরও বৈঠক নিয়ে ‘প্রাথমিক পর্যায়ের’ আলোচনা হয়েছে বলে তালেবানদের এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। আফগানিস্তানের বিস্তৃত অঞ্চলে কয়েক দশক ধরে ক্রিয়াশীল গোষ্ঠীটির অন্য এক কর্মকর্তাও বৈঠকটিকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ীই কাতারে তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে অ্যালিসের এ সরাসরি বৈঠক হল বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের। আফগান সরকারের প্রতিনিধি ছাড়াই অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ১৭ বছর ধরে চলা যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে নতুন কৌশল প্রয়োগের ইঙ্গিত দিল বলেও মনে করা হচ্ছে।
ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তা অ্যালিসের আলোচনায় শান্তি আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়া নিয়ে কথা হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক তালেবান কর্মকর্তা। “আবার বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে আফগান সংঘাত নিরসনের ব্যাপারে আমাদের সমঝোতা হয়েছে,” বলেছেন তিনি।

তালেবান প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অ্যালিসের বৈঠকের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তালেবানের দুটি শীর্ষ সূত্রও পরে বিবিসির কাবুল প্রতিনিধিকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পরে অ্যালিসের দোহা সফরের কথা জানিয়ে বলেন, জ্যেষ্ঠ এ কূটনীতিক কাতারের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক এবং আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। অ্যালিসের সফরের কথা জানালেও তার সঙ্গে তালেবান প্রতিনিধিদের কোনো বৈঠক হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত কিংবা অস্বীকার কোনোটিই করেনি ওয়াশিংটন।
তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আরও দুটি বৈঠক হয়েছে বলে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে খবর এলেও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি। মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকে কোনো আফগান সরকারি কর্মকর্তা যেন উপস্থিত না থাকে সে জন্য তালেবানদের চাপ ছিল বলেও দাবি ব্রিটিশ এ গণমাধ্যমের।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে তালেবানদের সঙ্গে যে কোনো বৈঠকে আফগান সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিতে জোর দিত। তালেবানরা অবশ্য আগে থেকেই কাবুলের সরকারকে পাশ কাটিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় আগ্রহী ছিল।
পাঁচ বছর আগেও দোহায় তালেবান, আফগান সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়ছিল, যদিও পরে তা ব্যর্থ হয়ে যায়। সেসময় কাতার কার্যালয়ের বাইরে তালেবানদের পতাকা ও আফগানিস্তানের নাম হিসেবে ‘ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান’ লেখা দেখে তৎকালীন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বেশ ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন।
১৯৯০ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তালেবানরা আফগানিস্তানকে এই নামেই ডেকে আসছে। ২০০১ সালে টু্ইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ক্ষমতা থেকে তালেবানদের উৎখাতে সেনা মোতায়েন করে; যাকে কেন্দ্র করেই তালেবান ও মার্কিন সেনাদের মধ্যে দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের সূচনা হয়।
