প্রতিদিন কত রকমের ঘটনাই না ঘটে থাকে আমাদের চারিপাশে। তার সব আমরা জানতে না পারলেও কিছু কিছু জিনিস আমাদের কাছে এসে পৌছায় যা খুবই আশ্চর্য এবং রহস্যজনক।
হাইস্কুলের একটি হোস্টেলে রাত হলেই শোনা যায় রক্তহীম করা চিৎকার। আবার কখনও অনুভব করা যায় ঘরের ভেতরে। মনে হয় দৌঁড়ে বেড়াচ্ছে কেউ। আবার কখনও ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে নড়াচড়া, কখনও লোহার কোনোকিছু দিয়ে ঘরের পিলারে বাড়ি দেওয়া, পুরো বাড়ি কেঁপে ওঠা। গ্রামবাসীরাও রাত হলে বের হন না ঘর থেকে। ভুতের ভয় গ্রাস করেছে পুরো গ্রামকে।
ঘটনাটি ভারতের চেংমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব দলাই গাঁওয়ে। এলাকার মাল ব্লকের মডেল হাইস্কুলের একটি হোস্টেলে নিয়মিত ঘটছে এমন কাণ্ড। আতংকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন হোস্টেল সুপারের স্ত্রী। কিন্তু গ্রামবাসী বলছে, তাকে ভূতে ধরেছে। এ ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। দ্রুত সেখানে সরজমিনে তদন্ত করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।
ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত দুই বছর ধরে মাল ব্লকের মডেল হাইস্কুলের হোস্টেল সুপারের দায়িত্ব পালন করা টোটোন রায় সম্প্রতি এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন। যদিও এই ভূতুড়ে সমস্যা আগে থেকে ছিলো, কিন্তু তিন মাস আগে বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে হোস্টেলে ওঠার পর থেকে সমস্যা আরও বেড়েছে।
টোটন রায়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, দুবছর ধরে ওই হোস্টেলে বসবাস করা টোটন ভর দুপুরে কিংবা গভীর রাতে বিভিন্ন ধরনের শব্দ শুনতে পেতেন। কিন্তু সমস্যা এতো বেশি না হওয়ায় তিনি গরজ করেননি। কিন্তু গত তিন মাসে আগে তিনি বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে ঘরে ওঠেন। তারপর থেকেই সমস্যা বেশি দেখা দিয়েছে।
রাতের বেলা কোনো মেয়ে তার নাম ধরে ডাকে। কিন্তু ঘর থেকে বেরিয়ে তিনি কাউকে পেতেন না। অনেক সময় একটা মেয়ে আর্তচিৎকার করে ওঠে। আবার অনেক সময় ঘরের পিলারে লোহার কিছু দিয়ে এমনভাবে বাড়ি দেয় যেন পুরো বাড়ি কেঁপে ওঠে। হঠাৎ চিৎকার আর এমন বাড়ির কারণে টোটনের নতুন স্ত্রী অসুস্থ হয়ে যান।
টোটন আরও যোগ করেন, তার ঘরের বাইরে একটি খাঁচায় তিনি খরগোশ পালতেন। খাঁচার বাইরে তিনি তালা দিয়ে রাখতেন। কিন্তু একদিন তিনি ঘরে ফিরে দেখেন খাঁচায় তালা বন্ধ কিন্তু খরগোশ দুটি নেই।
এসব খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাবাসী বিভিন্নরকম কথা বলছেন। কেউ বলছেন, ওই হোস্টেল এলাকার ভেতরে শ্মশানঘাটের জায়গা ছিলো। সন্ধ্যা হলেই সেখানে একটা মেয়েকে দেখা যেতো। অনেকের নাম ধরে ডাকতো। তাই কেউ ওই এলাকায় যেতে সাহস পেতো না। কেউবা আবার বলছেন, ৪৫ বছর আগে বুড়ি রায় নামে একটি মেয়ে সেখান থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে পাশের খুলনাই নদীর পাশে তার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। এরপর থেকেই এলাকাটিতে ভৌতিক কাণ্ড ঘটতে শুরু করে।
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চের রাজ্য সহসভাপতি শঙ্কর কর এ ব্যাপারে বলেছেন, ভূত বলে তো কিছু হয় না। ওটা মানুষের মনের ভয়। তারা ওই হোস্টেল এলাকায় যাবেন। তদন্ত করবেন ঘটনাটি।
পূর্ব দলাই গাঁওয়ের পুলিশ পরিদর্শক অনির্বান শেঠ বলেছেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। গ্রামবাসীও বিভিন্ন ধরনের কথা বলছেন। রাজ্য সহসভাপতির অনুমতিক্রমে আমরা এলাকাটি পরিদর্শন করবো। তদন্ত করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো।’
