কূলে এসে তরী ডোবানোটা যেন বহুদিনের অভ্যাস বাংলাদেশের। স্নায়ু চাপ কিংবা দায়িত্ব অবহেলায় প্রায়ই জেতা ম্যাচ হারতে হয় তাদের। কখনো সিনিয়রদের ব্যর্থতা, আবার কখনোবা জুনিয়রদের খামখেয়ালিপনায় শূন্য হাতে সিরিজ শেষ করতে হয় টাইগারদের। তারপরও সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দুটিতে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। জিতলেও সিরিজটিতে নিজেদের বেশ কিছু ঘাটতির কথা উল্লেখ্য করেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পুরো অংশজুড়ে নিদারুণ ব্যর্থ ও ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে জুনিয়রদের পারফর্মে। বিশেষ করে সাব্বির-এনামুল ও মোসাদ্দেকের পারফর্ম ছিল চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর মতো। ওয়ানডে সিরিজে তিন ম্যাচে মোটে ৩৩ রান করেন এনামুল। যা একজন ওপেনারের নামের পাশে মোটেও যায় না। অথচ প্রস্তুতি ম্যাচে লিটন কুমার দাসের ৭০ রানের ইনিংস খেলার পরও তাকে বসিয়ে সুযোগ দেয়া হয় তাকে। অন্যদিকে বিতর্কিত ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমানের সংগ্রহ একেবারে নাজুক। তিন ম্যাচে মাত্র ২৭ রান করেছেন তিনি। যা বড়ই হাস্যকর। শেষ মুহুর্তে ধুম-ধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ের জন্য নামানো হলেও প্রতিটি ম্যাচে খুব বাজেভাবে আউট হয়ে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। মোসাদ্দেকের অবস্থা আরো করুণ। দুই ইনিংসে ১৪ রান জমা পড়ে তার ঝুলিতে।
আপতদৃষ্টিতে খালি চোখে এই সামান্য কিছু ব্যর্থতা ধরা পড়লেও মূলত পাঁচটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর হয়তো জানা নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের।
তামিমের ওপেনিং সঙ্গী কে?
ব্লাউজ-শাড়ি সবই মেচিং করে পরলেন। কিন্তু বিপত্তি বাধলো কপালের টিপটা নিয়ে। কারণ ওটা নিতান্ত ডিসকালার। কিছুতেই শাড়ির কালারের সঙ্গে যাচ্ছে না। কিন্তু তারপরও মনে খুঁতখুঁত রেখেই আপনাকে টিপ পরে বাইরে বের হতে হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের ওপেনিং নিয়েও এমন একটা সমস্যা বর্তমান। তামিমের সঙ্গে এনামুল-সৌম্য-লিটন কতজনকেই না মেচিং করার চেষ্টা করেছে বিসিবি কিন্তু কিছুতেই মানিয়ে নিতে পারেনি। কারণ কতজন আসে যায়, তামিমটাই শুধু থেকে যায়।
হাস্যকর এবং অবাক হওয়ার মতো তথ্য হচ্ছে, সদ্য শেষ হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ২৮৭ রান। অন্যদিকে তার পার্টনার এনামুল করেন মাত্র ৩৩ রান। মূলত সৌম্যের ব্যর্থতার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এনামুলকে বিবেচনা করে বিসিবি। আর সে প্রতিদান তিনি কড়ায় গণ্ডায় দিলেন। একই অবস্থা লিটন দাসেরও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টি-২০ সিরিজে খুব বেশি জ্বলতে পারেননি এই তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।
তাই এখন প্রশ্ন হতে পারে, ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী আসলে কে? লিটন-সৌম্য-ইমরুল নাকি এনামুল।
ফিনিসারের ভূমিকায় কে থাকবেন?
প্রশ্নটা বেশ পুরোনো হলেও উত্তরাটা এখনো অজানা। সুষ্ঠু ফিনিশিংয়ের অভাবে বরংবার ব্যর্থ বাংলাদেশ। কারণ টাইগার টিম ঘুরে ফিরে এক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ওপরই ভরসা রাখে। এছাড়া এখন পর্যন্ত বিকল্প খুঁজে পায়নি বিসিবি। সাব্বির-মোসাদ্দেক লোয়ার অর্ডারে নেমে কখনোই নিজের নামের সুবিচার করতে পারেনি। বার বার ব্যর্থ হয়েছেন। দেশের মান সম্মান খুইয়েছেন। এছাড়াও ভায়রা ভাই মাহমুদ উল্লাহ’র সঙ্গে বেশ কয়েকটি ম্যাচে ইতি টানতে গিয়ে লজ্জায় পড়েন মুশফিক।
তাই প্রশ্ন হচ্ছে, মাহমুদউল্লাহ’র অনুপস্থিতিতে কে ধরবেন এই হাল?
কে হবেন ডেথ ওভারের কাণ্ডারি?
গেল তিন বছর ধরে শেষ পাঁচ ওভারে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা ইকোনোমিকাল বোলারের তালিকায় মোস্তাফিজুর রহমানের নাম। ডেথ ওভারে তার রান দেয়ার হার ওভার প্রতি ৬.০৮। কিন্তু দুঃখজন ব্যাপার হলো, টাইগার দলের অন্য বোলার রুবেল হোসেন ইনিংসের শেষ পাঁচ ওভারে রান দেয়ার হার ওভার প্রতি ১০.৪০। যা মোস্তাফিজের চেয়ে ৪.৬৬ হারে বেশি। যদিও এক্ষেত্রে সফল দুই ফরম্যাটের দুই অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি। এক্ষেত্রে নতুন অনেক পেসার দিয়ে চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ বিসিবি।
মেহেদি কি নতুন বলের বোলার?
স্বীকার করে নিতে হবে, এই মুহুর্তে ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশকে বেশ ভালো বোলিং উপহার দিচ্ছেন তরুণ মেহেদী হাসান মিরাজ। একদিনের ক্রিকেটে বেশিরভাগ সময় নতুন বলে বোলিং করানো হচ্ছে তাকে। যদিও নতুন বলে বোলিংয়ের জন্য বাংলাদেশে বেস্ট মাশরাফি বিন মর্তুজা। তাছাড়া বিশ্বের বড় দলগুলোকে দেখা যায় নতুন বল পেসারদেরই কাজে লাগাতে।
বাংলাশের বেঞ্চসাইট কতটা শক্তিশালী?
বাংলাদেশ ক্রিকেট সূচি বলছে, আগামী ১০ মাসে প্রচুর ক্রিকেট ম্যাচ রয়েছে বাংলাদেশের। এ জন্য খুবই ব্যস্ত সময় কাটাতে হবে টাইগারদের। বিশেষ করে ২০১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বেশ সাবধানে পা ফেলতে হবে মাশরাফি-সাকিবদের। সে জন্য নিয়মিত প্লেয়ারদের পাশাপাশি অনিয়মিতদেরও দিতে হবে সুযোগ। কিন্তু কথা হলো, বাংলাদেশেল সাইটবেঞ্চ কতটা শক্তিশালী? এখানে সত্যিই প্রাণের সঞ্চার আছে তো?
এক্ষেত্রে মিজানুর রহমান, সাইফ হাসান, আফিফ হোসেন, সাইফুদ্দিন ও শান্তদের ওপর ভরসা রাখা যায়। কিন্তু বিসিবি চাইলেও এদের বেশ কয়েকজনের ওপর ভরসা রাখতে পারে না। কারণ জাতীয় দলে অভিষেকের পর আর খুঁজে পাওয়া যায় না তাদের।
