১৯ বছরের এমবাপ্পে, ১৮ বছরে আমরাও কম ছিলাম না…

রাশিয়া বিশ্বকাপে চমক দেখিয়েছেন ফরাসী তরুণ কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। ভাগ বসিয়েছেন কিংবদন্তি পেলের রেকর্ডে। ১৯ বছর বয়সী এমবাপ্পে যখন বিশ্বজয় করছে তখন বাংলাদেশি তরুণরা কি করছে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন অনেক ট্রল দেখা যায়। এমনকি অপরাধী গানের গায়ক আয়মান আলিফের সাথে ট্রল করা হচ্ছে এমন যে ‘১৯ বছরের এমবাপ্পে যখন বিশ্ব জয় করছে, তখন বাংলাদেশি তরুণরা অপরাধী।’ আসলে কি তাই? বাংলাদেশি তরুণরা কি দেশের জন্য কিছুই করেনি!

আসুন এক নজরে দেখে নেই ১৯ কিংবা তার আগে বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদিশে তরুণদের যত অর্জন-

১. ১৬ বছর বয়সে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে ডাক পেয়েছিলেন কিংবদন্তি গোলকিপার আমিনুল হক। ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেকও হয়েছিল। তিনি একমাত্র বাংলাদেশি যিনি ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসেল ইউনাইটেডে খেলার অফার পেয়েছিলেন। এছাড়া সৌদি আরবের আল হিলাল ফুটবল ক্লাবে খেলার অফারও পেয়েছিলেন তিনি।

২. ১৬ বছর বয়সে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলেছেন এনামুল জুনিয়র, তালহা জুবায়ের।

৩. ১৭ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে ক্রিকেটতীর্থ লর্ডসে টেস্ট অভিষেক হয়েছে মুশফিকুর রহিমের।

৪. ১৭ বছর বয়সে টেস্ট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল।

৫. ১৮ বছর বয়সে দেশের হয়ে টেস্টে ৫ উইকেট নিয়েছেন এনামুল ও মিরাজ। ১৯তম জন্মদিনের পরপরই টেস্টে ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ।

৬. ১৮ বছর বয়সে দেশের হয়ে বল হাতে আগুণ ঝরিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মর্ত্তোজা।

৭. ১৯ বছর বয়সে বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচ বাঁচানো আর সিরিজ জেতানো সেঞ্চুরি করেছিলেন নাফিস ইকবাল।

৮. ১৯ বছর বয়সে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করেছেন সাকিব, তামিম, বিজয়। ৫ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন, মোস্তাফিজ।

৯. কিলিয়ান এমবাপ্পে ১৯ বছর বয়সে বিশ্ব জয় করেছেন। আমিনুলের বাংলাদেশ দলে খেলার তুলনাই চলে না সেখানে।

হ্যাঁ, ফুটবলের তুলনায় ক্রিকেট জগত নিতান্তই লিলিপুট, কোনো তুলনাই চলে না। বিশ্বকাপ ফুটবল জয়ের চেয়ে তুলনায় টেস্ট খেলাও কিছুই না। তবে একটি জায়গায় মূল ব্যাপার একই কোনো একটি ক্ষেত্রে দেশকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করা। হয়তো এমবাপ্পে বাংলাদেশে জন্মগ্রহন করলে ক্রিকেটার হতেন কিংবা এই বয়সে ফার্মগেটের কোচিং সেন্টারগুলোতে দৌড়াতেন।

বাসে ঝুলে ফার্মগেটে কোচিং করতে যাওয়া যেমন বাস্তবতা, একই বয়সে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করাও তেমন বাস্তবতা।স্বপ্নের পথে হাঁটতে ভাগ্যটাকে যেমন পাশে পেতে হয়, তেমনি ইচ্ছের তীব্রতাও লাগে। মোদ্দাকথা, এমবাপ্পে যেমন তার জায়গায় সেরা তেমনই মাশরাফি, আশরাফুল, মুশফিক, মিরাজরা তাদের জায়গা থেকে দেশকে বিশ্ব মঞ্চে পরিচিত করেছেন।মঞ্চটা ভিন্ন হলেও স্ক্রিপ্ট কিন্তু একই।