আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) নির্বাচন। প্রচারণার শেষ দিনে ব্যাপক গনসংযোগ করেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা।
৮ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হতদরিদ্র নাদিরা বেগম। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা এই নারী পেশায় গৃহিণী। ওই ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছেন আরও ছয়জন। ভোটের মাঠে দলবেঁধে ঘুরছেন সবাই। কিন্তু ভিন্ন চিত্র নাদিরা বেগমের। গত তিনবার সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে অংশ নিয়েছেন নাদিরা বেগম। কিন্তু একবারও নির্বাচিত হতে পারেননি। প্রতিবারই অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। এ ব্যবধানের একমাত্র কারণ টাকা।
অন্য দু’বারের মত এবারও ভোটের মাঠে নাদিরা বেগমের কোনো নেতাকর্মী বা লোকবল নেই। নেই তেমন অর্থ-কড়ি। তারপরও থেমে নেই তার প্রচারণা। ছেলেকে নিয়ে নিজেই নেমে পড়েছেন ভোটের মাঠে। কখনও রিকশা আবার ভ্যান চেপে নিজেই মাইকিং করছেন নাদিরা। পাশাপাশি পোস্টার টানিয়েছেন নিজ হাতে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দরজায় দরজায় কড়া নেড়েছেন এই প্রার্থী। মানুষের পাশে থেকে সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘জিপগাড়ি’ প্রতীকে চাইছেন ভোট।

একমাত্র ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই পুরো সময়টায় চালিয়েছেন ভোটের প্রচারণা। জানা যায়, বিয়ের কয়েক বছর পর স্বামীকে হারান নাদিরা। সেই থেকে একাই পথচলা তার। নাদিরা বেগম নগরীর রামচন্দ্রপুর এলাকার মকবুল হোসেনের মেয়ে। তার একমাত্র ছেলে শাহারিয়ার আহমেদ স্বপ্নীল নগরীর ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র মডেল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
কথা হলে তিনি জানান, মাত্র ৬০ হাজার টাকা নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন নাদিরা। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা বোনের কাছ থেকে ধার নিয়েছেন। পোষা রাজহাঁস বিক্রি করে বাকি টাকা জোগাড় করেছেন তিনি। স্থাবর সম্পত্তি বলতে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৮ শতাংশ জমি রয়েছে তার। নগদ ৬০ হাজার টাকা ছাড়াও তার ফ্যান, মোবাইল এবং দুটি খাট রয়েছে অস্থাবর সম্পত্তির ঘরে। প্রতি মাসে গড়ে তিন হাজার টাকা করে আয় করেন জীবন সংগ্রামী এই নারী।
এবারের নির্বাচন নিয়ে নাদিরা বেগম বলেন, অর্থের অভাবে ভালোভাবে প্রচারণায় নামতে পারি না। কিন্তু বরাবরই এলাকার মানুষের সমর্থন পেয়েছি। এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আমি।
