উত্তমের স্বপ্ন পূরণে একসঙ্গে এপার-ওপারের শিল্পীরা

১৯৭৩ সালে মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রতিষ্ঠিত শিল্পী সংসদের ব্যানারে মুক্তি পায় ‘বনপলাশীর পদাবলী’। সুপ্রিয়া, মাধবী, বিকাশ রায়কে নিয়ে বানানো এ ছবিটি নিয়ে বক্স অফিসে সেসময় ঝড় তোলেন উত্তম কুমার। তবে মহানায়ক স্বপ্ন দেখেছিলেন, শিল্পী সংসদ এমন ছবি করবে যেখানে প্রচুর শিল্পী কাজের সুযোগ পাবেন। একটি ছবির পর তা আর সার্থক হয়নি। ১৯৮০ সালে উত্তম কুমার পরপারে চলে যান। প্রায় ৪৮ বছর পর তার সেই স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে।
মহানায়কের ৩৯তম প্রয়াণ দিবসের সন্ধ্যায় সেই সুখবর দিয়েছেন শিল্পী সংসদের বর্তমান সভাপতি ও অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তিনি কলকাতার নন্দনে মহানায়ক স্মরণে অনুষ্ঠানে বলেন, সাড়ে চুয়াত্তর চলছে, তারপরও একটা আসনও খালি নেই। তাই নতুন করে বলতে হয় না, উত্তম বাবু সব প্রজন্মের মহানায়ক। তিনি অমর। আমরা তাই ভেবেছি ওনার স্বপ্ন মাথায় রেখে প্রবীণ ও নবীন সব শিল্পী মিলে এক ছাদের তলায় আসব। শুধু ছবি কেন্দ্রিক ভাবনা নয়, সব প্রজন্মের শিল্পীর বৃহত্তর মেলবন্ধনের মঞ্চ হিসেবে শিল্পী সংসদকে তুলে ধরতে চাইছি। আর পরিচালক গৌতম ঘোষ দাদাকে অনুরোধ করছি এমন একটা সাবজেক্ট ভাবুন যাতে প্রচুর প্রবীণ ও নবীন শিল্পী কাজ করবেন। ফলে ছবিটি এমনিতেও আর পাঁচটা কাজের থেকে অনেক আলাদা হবে। এদিকে এ কথায় গৌতম ঘোষও রাজি হয়েছেন। তিনি ভারতের একটি গণমাধ্যমে নতুন এ ছবির কথা স্বীকার করে বলেছেন, ঋতুপর্ণা বলেছেন ছবির জন্য সাবজেক্ট বাছাই করতে। হাতে একটা ছবি রয়েছে আমার, সেটা শেষ করে নতুন কাজটা নিয়ে বসব। উত্তমদার যে স্বপ্ন শিল্পী সংসদকে নিয়ে ছিল- ভালো ছবি করব, অনেকে কাজ করবে, সেটা সার্থক করার চেষ্টা এটি। আমরা ঋতুপর্ণার পাশে আছি। এদিকে আরো জানা যায়, শুধু গৌতম ঘোষ নয়, এ ছবিতে এপার বাংলার বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা আলমগীর ও চিত্রনায়ক ফেরদৌসের সঙ্গেও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত কথা বলেছেন। তারাও এমন বিশেষ একটি প্রজেক্টে কাজের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ তথ্যটি মানবজমিনকে ফেরদৌসও নিশ্চিত করেছেন।